
স্টাফ রিপোর্টার রংপুর বিভাগ, মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মোখলেসুর রহমান স্বচ্ছতা, দক্ষতা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। প্রায় দুই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁর বক্তব্যে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, শুরু করা কাজের সুন্দর সমাপ্তি এবং মাদ্রাসার সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মোখলেসুর রহমান বলেন, “আমি প্রায় দুই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার মূল লক্ষ্য হলো, যে দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছি, সেই কাজের শেষটাও যেন ভালোভাবে করতে পারি। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই।”
তিনি বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদান ও পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও সুশিক্ষায় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কার্যক্রমে দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ এবং অভিভাবকদের সচেতন অংশগ্রহণ থাকলে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা সম্ভব।
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে গুরুত্ব
রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি ধরে রাখতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাও অপরিহার্য।
মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক নজর দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মোখলেসুর রহমানের বক্তব্যে দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা ও অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার যে প্রত্যয় উঠে এসেছে, তা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে। তবে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিকল্পিত উদ্যোগ, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
দায়িত্বের সুন্দর সমাপ্তিই প্রধান প্রত্যাশা
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনে আরও পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে চান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মোখলেসুর রহমান। তাঁর মতে, কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পন্ন করাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা, শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং অসমাপ্ত কাজগুলো সুন্দরভাবে শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি এগিয়ে যেতে চান।
তিনি আরও মনে করেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কোনো একক ব্যক্তির প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ হয় না। এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা
রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মোখলেসুর রহমান। তাঁর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে তিনি দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন এবং শুরু করা কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন।
শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের। দায়িত্বের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠা বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করাই হোক তাঁর অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।
Leave a Reply