মোহাম্মদ উল্লাহ, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি
নোয়াখালী একটি কৃষিনির্ভর জেলা। নদী, খাল, বিল ও আবাদি জমির ওপর মানুষের জীবিকা নির্ভর। অথচ সেই উর্বর মাটিই আজ অবৈধভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে। সেনবাগসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষিজমির টপ সয়েল ট্রাকভর্তি করে অন্যত্র বহন করার অভিযোগ উঠছে, যা রাতের আঁধারে বা দিনের বেলাতেই প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় হচ্ছে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে কৃষিজমি ধীরে ধীরে অনাবাদি হয়ে পড়বে, পরিবেশের ক্ষতি হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে মাটি উত্তোলন ও পরিবহন নিয়ন্ত্রণে একাধিক আইন রয়েছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া মাটি উত্তোলন শাস্তিযোগ্য। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী ক্ষতি হলে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিতে পারে। এছাড়া দণ্ডবিধি ও ভূমি সংক্রান্ত আইনের আওতায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায়।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—আইন ও ক্ষমতা থাকলেও কেন কার্যকর প্রয়োগ নেই? কেন দৃশ্যমান অভিযান কম? স্থানীয়রা মনে করেন, প্রশাসনের নীরবতা কখনো নিরপেক্ষতা নয়; অনেক সময় তা প্রশ্রয়ের সমতুল্য।
উর্বর টপ সয়েল কেটে নেওয়ার ফলে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যায়, পানি ধারণক্ষমতা হ্রাস পায়, বর্ষায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বিক্রি হওয়া এই মাটির স্তর পুনর্গঠনে প্রকৃতির বহু বছর লাগে।
প্রশাসনের করণীয় হলো—নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অবৈধ মাটি বহনকারী যানবাহন জব্দ, জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, পুনরাবৃত্তি রোধে নজরদারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি পুনর্বাসন।
জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব জনগণের সম্পদ রক্ষা করা। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও সংসদ সদস্যদের সোচ্চার প্রতিবাদ এবং সমন্বিত উদ্যোগে মাটি রক্ষা করতে হবে।
শুধু সেনবাগ নয়, বেগমগঞ্জ, চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জ, সুবর্ণচর ও হাতিয়াসহ নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মাটি কাটা নীরব সংকটে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখনও নীরব, কিন্তু ক্ষোভ জমছে। প্রশাসন যদি ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়, তাহলেই জনমনে বার্তা যাবে—রাষ্ট্র জেগে আছে।
মাটি শুধু সম্পদ নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একযোগে এগিয়ে আসতেই হবে।
সম্পাদক : বাতেনুজ্জামান জুয়েল
Copyright © 2025 দেশবাংলা সংবাদ All rights reserved.