আব্দুল আজিজ ইসলাম সাগর,
স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের উলিপুরে হামলা মামলার আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর মব সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় একদল নারী-পুরুষ পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ ও হট্টগোল শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রোববার (১৫ মার্চ) উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রায় এক মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশ ওই এলাকায় গেলে স্থানীয় কিছু নারী-পুরুষ পুলিশকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে হট্টগোল শুরু করে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সরে আসে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকার মাহাবুবার রহমান (৪৫)-এর সঙ্গে প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সরকার (৭০)-এর দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১০ মার্চ মাহাবুবার রহমান ও তাঁর ভাই মিজানুর রহমান (৩০)-এর নেতৃত্বে কয়েকজন লোক মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সরকারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে থাকা তাঁর স্ত্রী সামছুন্নাহার বেগম ও মেয়ে আফ্রিদা আজিজ সাথীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি বসতঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধূ হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর রোববার মামলাটি গ্রহণ করে।
বাদী হাজেরা খাতুন বলেন, মাহাবুবার রহমান ও তাঁর লোকজন আদালতে চলমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। তিনি জানান, তাঁর শ্বশুর স্ট্রোকজনিত কারণে চলাফেরা করতে পারেন না এবং তাঁর স্বামী চাকরির কারণে বাইরে থাকেন। এ সুযোগে বাড়িতে থাকা নারীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
অভিযুক্ত মাহাবুবার রহমান মোবাইল ফোনে জানান, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই মামলা নিয়েছে। পুলিশ তাঁর বাড়িতে দু’বার এসেছিল, কিন্তু মামলার কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি।
পুলিশকে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, মামলা মিথ্যা হওয়ায় স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ জানাতে জড়ো হয়েছিল।
এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার ঘটনায় ১১ মার্চ একটি অভিযোগ পাওয়া যায়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলার পর রোববার মামলা নেওয়া হয়। পরে পুলিশ অভিযানে গেলে আসামিপক্ষ নারী ও ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে এলাকায় মব সৃষ্টি করে, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
সম্পাদক : বাতেনুজ্জামান জুয়েল
Copyright © 2025 দেশবাংলা সংবাদ All rights reserved.