বাতেনুজ্জামান জুয়েল
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ। বাঙালি জাতির হাজার বছরের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও অবিচল সাহসিকতার এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক এই দিন। গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অনির্বাণ চেতনায় দিবসটি উদযাপিত হয়েছে রাজৈর উপজেলা চত্বরে।
ভোরের প্রথম প্রহরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে মহান স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে পালন করা হয় নীরবতা, যেখানে উপস্থিত সকলেই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন জাতির সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো উপজেলা চত্বর। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও দৃষ্টিনন্দন ডিসপ্লে প্রদর্শনী ছিল আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ। শৃঙ্খলা, ঐক্য ও দেশপ্রেমের মূর্ত প্রতীক হয়ে শিশু-কিশোরদের পদচারণা ও পরিবেশনা মুগ্ধতা ছড়ায় উপস্থিত দর্শনার্থীদের মাঝে। লাল-সবুজের আবহে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় প্রাণ ফিরে পায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আয়োজনকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যমণ্ডিত। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত দেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মহান এই দিবসে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সেইসব অমর শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের অকৃত্রিম ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকা। তাদের এই আত্মদান বাঙালি জাতির প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।
স্বাধীনতার এই মহিমান্বিত দিন বাঙালির হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে নতুন প্রত্যয়—দেশপ্রেম, মানবিকতা ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার।
সম্পাদক : বাতেনুজ্জামান জুয়েল
Copyright © 2025 দেশবাংলা সংবাদ All rights reserved.