
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ২নং হলোখানা ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ধরলা নদীর শাখা নদীর ওপর অবস্থিত বাংটুর ঘাট—একটি নাম, একটি পথ, একটি সংগ্রামের প্রতীক। এই একটি ঘাটকে কেন্দ্র করেই প্রতিদিন জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। অথচ স্বাধীনতার এত বছর পরেও এখানে নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। উন্নয়নের যুগে দাঁড়িয়ে আজও নৌকাই একমাত্র ভরসা—যা এলাকাবাসীর জন্য লজ্জা, কষ্ট আর অবহেলার এক জীবন্ত চিত্র।
প্রতিদিন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, কৃষকের পণ্য—সবকিছুই ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় এই ঘাট দিয়ে। বর্ষা মৌসুম এলে দুর্ভোগ যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেক সময় জরুরি রোগী সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে জীবন হারানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এই দীর্ঘদিনের অবহেলা আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে এবার ফুঁসে উঠেছে ধরলা পাড়ের মানুষ। সম্প্রতি বাংটুর ঘাট এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল মানববন্ধন। হাজারো মানুষের ঢল নামে সেখানে। হলোখানা ইউনিয়নসহ পাশের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মানুষ এসে যোগ দেন এই কর্মসূচিতে। সবার হাতে একটাই বার্তা—
“দাবী মোদের একটাই, বাংটুর ঘাটে সেতু চাই”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন,
“আমরা শুধু আশ্বাস শুনতে শুনতে ক্লান্ত। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি, আর পরে নীরবতা—এই চক্র আর মানি না। ডিজিটাল বাংলাদেশে থেকেও আমরা কেন আজও আদিম পদ্ধতিতে নদী পার হবো? একটি সেতু আমাদের স্বপ্ন নয়, এটি আমাদের মৌলিক অধিকার।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা বলেন,
“এই সেতু শুধু হলোখানা ইউনিয়নের জন্য নয়, এটি নির্মিত হলে ফুলবাড়ী উপজেলার অন্তত ছয়টি ইউনিয়নের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রে আসবে নতুন গতি। তাই এই সেতু এখন সময়ের দাবি, জনগণের দাবি।”
এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন—আর কত অপেক্ষা? আর কত প্রতিশ্রুতি? উন্নয়নের এই যুগে দাঁড়িয় একটি সেতুর জন্য কেন এত দীর্ঘ সংগ্রাম?
ধরলা পাড়ের মানুষের কণ্ঠ আজ একটাই—
বিলম্ব নয়, অজুহাত নয়—এবার চাই বাস্তবায়ন।
বাংটুর ঘাটে সেতু নির্মাণ করে প্রমাণ করতে হবে—জনগণের কণ্ঠই শক্তি, জনগণের দাবিই সত্য।
দাবী মোদের একটাই—
বাংটুর ঘাটের সেতু চাই
সম্পাদক : বাতেনুজ্জামান জুয়েল
Copyright © 2025 দেশবাংলা সংবাদ All rights reserved.