মোঃ মিজানুর রহমান নন্দন
মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া-গাগলাজুর সড়ক আজ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির নয়, বরং চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার নির্মম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ২৮ কোটি টাকার প্রকল্প—কাগজে উন্নয়ন, বাস্তবে দুর্ভোগ।
কুমিল্লাভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস হাসান বিল্ডার্স লিমিটেড ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময় ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা ব্যর্থ হয়। এরপর একাধিক দফায় সময় বৃদ্ধি—প্রথমে জানুয়ারি ২০২৬, এখন আবার জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময় চাওয়া—এ যেন ব্যর্থতার ধারাবাহিক বৈধতা দেওয়া।
প্রশ্ন হচ্ছে—এই দীর্ঘসূত্রিতার দায় কার? ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা, নাকি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলা? কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে এমন উদাসীনতা কি মেনে নেওয়া যায়?
বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে হাওরাঞ্চলের লাখো মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রোগীদের হাসপাতালে নিতে হচ্ছে হাতে ঠেলা ভ্যানে—যা আধুনিক রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না। অভিযোগ রয়েছে, সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
কাদা, গর্ত আর ভাঙাচোরা পথে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। যানবাহন চলাচল বন্ধপ্রায়, পায়ে হাঁটাও ঝুঁকিপূর্ণ। এ যেন একটি জনপদকে পরিকল্পিতভাবে অবহেলার অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার চিত্র।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়—একাধিকবার গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। এই নীরবতা কি দায় এড়ানোর কৌশল, নাকি অদৃশ্য কোনো স্বার্থের প্রতিফলন?
এ অবস্থায় এলাকার মানুষ দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের কাছে।
আর বিলম্ব নয়—এই সড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এই অবহেলা কেবল উন্নয়ন ব্যর্থতার নয়, মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে থাকবে।
সম্পাদক : বাতেনুজ্জামান জুয়েল
Copyright © 2025 দেশবাংলা সংবাদ All rights reserved.