আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৭ জন নিহত, কয়েক শতাধিক আহত এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। স্থানীয় সময় ৮ জুন সকালে সংঘটিত এ ভূমিকম্পকে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের ফলে বহু ভবন ধসে পড়ে, সড়কে ফাটল সৃষ্টি হয়, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং উপকূলীয় এলাকায় প্রায় এক মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হানে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেনারেল সান্তোস সিটি, যেখানে উদ্ধারকর্মীরা এখনো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ২০২৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। এছাড়া ফিলিপাইনে ১৯৯০ সালের ভয়াবহ ৭.৮ মাত্রার লুজন ভূমিকম্পের পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেই ভূমিকম্পে প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। অর্থাৎ প্রায় ৩৬ বছর পর দেশটি আবারও একই মাত্রার এক ভয়াবহ কম্পনের মুখোমুখি হলো।
ভূমিকম্পের পর ১০০টিরও বেশি পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটির মাত্রা ছিল ৬.৭ পর্যন্ত। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আতঙ্ক এখনো কাটেনি। স্কুল, হাসপাতাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগের দিনই ছিল নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন, ফলে লাখো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এ দুর্যোগের সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়েন।
ফিলিপাইন সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং সেনাবাহিনী, উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসা সহায়তা মোতায়েন করেছে। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইন নিয়মিত ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকে। তবে এবারের ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের ব্যাপকতা, প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এটিকে সাম্প্রতিক কয়েক দশকের অন্যতম স্মরণীয় ও ভয়াবহ দুর্যোগে পরিণত করেছে।
সম্পাদক : বাতেনুজ্জামান জুয়েল
Copyright © 2025 দেশবাংলা সংবাদ All rights reserved.