মোঃ রাজু, জেলা প্রতিনিধি (রাজশাহী):
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ গোদাগাড়ী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের রেলগেট (সহরাগাছী) গ্রামের বাসিন্দা মোসাঃ রুপভান (১৯), পিতা মোঃ জহরুল ইসলাম, প্রায় তিন বছর আগে একই ইউনিয়নের রেলগেট (ঘোড়াপাড়া) গ্রামের মোঃ উজ্জ্বল হোসেন পিয়াস (২২)-এর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দাম্পত্য জীবনে বর্তমানে দেড় বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে রুপভান উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী উজ্জ্বল হোসেন পিয়াস, শ্বশুর মোঃ মনিরুল ইসলাম (৫০) ও শাশুড়ি মোসাঃ জেলি বেগম (৪৫) বিভিন্ন সময়ে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ গত ১৪ জুন ২০২৬, রবিবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে অভিযুক্তরা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। তিনি ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি দেখেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতেও স্বামী অন্য অভিযুক্তদের প্ররোচনায় প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এতদিন সবকিছু নীরবে সহ্য করে এসেছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একাধিকবার শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও অভিযুক্তরা কোনো গুরুত্ব দেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ উজ্জ্বল হোসেন পিয়াসের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেন তার পিতা মোঃ মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, তার ছেলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ছেলে-বউয়ের মধ্যে মাঝেমধ্যে ঝামেলা হয়। এ বিষয়ে তারা আমাকে কোনোভাবেই মানে না।”
অভিযোগে রুপভান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে অভিযুক্তদের নির্যাতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যেকোনো সময় তার এবং তার দেড় বছর বয়সী সন্তানের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তিনি নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সম্পাদক : বাতেনুজ্জামান জুয়েল
Copyright © 2025 দেশবাংলা সংবাদ All rights reserved.