স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নে স্থানীয় উন্নয়ন, জনসেবা ও নাগরিক প্রত্যাশাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের একটি অংশ বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মালেককে পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলে তাঁদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি ৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তাঁরা এ অভিমত জানান। তাঁদের মতে, ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করা জরুরি।
ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়নই হোক অগ্রাধিকার
ঘোগাদহ ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মানুষের জীবনযাত্রা, যোগাযোগব্যবস্থা, নাগরিক সুবিধা ও সামাজিক চাহিদা এক রকম নয়। কোথাও রাস্তাঘাট ও যাতায়াতের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ, কোথাও পানি নিষ্কাশন, পরিচ্ছন্নতা ও জনসাধারণের চলাচলের সুবিধা বিশেষ গুরুত্ব পায়। আবার কোথাও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি যেন প্রতিটি ওয়ার্ডের বাস্তব সমস্যা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং জনগণের মতামত নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তাঁদের মতে, একটি ইউনিয়নের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কোনো ওয়ার্ডকে অবহেলিত না রেখে সুষম উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মতবিনিময়
সম্প্রতি ইউনিয়নের ৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আলহাজ্ব আব্দুল মালেককে নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে। এ সময় তাঁরা তাঁর ভদ্র আচরণ, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।
মতবিনিময়কালে উপস্থিত কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, একজন জনপ্রতিনিধির সাফল্য শুধু উন্নয়নকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের বিপদে পাশে থাকা, সাধারণ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা আব্দুল মালেককে আবারও চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলে জানান।
নয়টি ওয়ার্ডের মানুষের প্রত্যাশা
ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের চাহিদা ও সমস্যা চিহ্নিত করে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা নিরূপণ, উন্নয়নকাজের স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হবেন।
বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং নাগরিক সেবাকে আরও সহজলভ্য করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে তাঁদের। তবে এসব প্রত্যাশা পূরণে কোন ওয়ার্ডে কী ধরনের কাজ বেশি জরুরি, তা নির্ধারণে এলাকাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।
উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান চেয়ারম্যান
নিজের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে আলহাজ্ব আব্দুল মালেক বলেন, “আমি আপনাদেরই মানুষ। সব সময় আপনাদের পাশে থেকে, আপনাদের পরামর্শ নিয়ে ঘোগাদহ ইউনিয়নকে আরও সুন্দর ও উন্নত করে গড়ে তুলতে চাই। আমি ইতোমধ্যে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি, যা আমার ইউনিয়নবাসী নিজেরাই জানেন। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করাই আমার লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ইউনিয়নবাসী ভাই ও বোনদের কাছে দোয়া চাই। ভবিষ্যতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আবারও তাঁদের সেবা করার সুযোগ পেলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। জনগণের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়েই আমি সামনের পথ চলতে চাই।”
জনপ্রতিনিধির মূল্যায়ন হোক কাজের ভিত্তিতে
আব্দুল মালেকের সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, জনপ্রতিনিধির সততা, নৈতিকতা, জনসম্পৃক্ততা ও উন্নয়নকাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত বাস্তব কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে। তাঁদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত বিরোধ বা অপপ্রচারের পরিবর্তে জনগণের পাশে থাকার মানসিকতা, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে জনপ্রতিনিধির জবাবদিহি, পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং সব ওয়ার্ডের প্রতি সমান মনোযোগও গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা গেলে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হতে পারে।
সব মিলিয়ে ঘোগাদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে উন্নয়ন, জনসেবা ও নেতৃত্ব নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা সামনে আসছে। তবে আলহাজ্ব আব্দুল মালেক পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন কি না, তা নির্ভর করবে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়ই নির্ধারণ করবে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব।
সম্পাদক : বাতেনুজ্জামান জুয়েল
Copyright © 2025 দেশবাংলা সংবাদ All rights reserved.