
স্পোর্টস ডেস্ক:
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রুদ্ধশ্বাস এক লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল ফুটবলবিশ্ব। শক্তির বিচারে অনেক পিছিয়ে থাকা কেপ ভার্দে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে পুরো ম্যাচজুড়ে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দেয়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতার পর অতিরিক্ত সময়ে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ ও গোলের নাটকীয়তায় জমে ওঠে ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠে দারুণ সমন্বয় আর দ্রুত পাসিংয়ে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে তারা। ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর ২০তম গোল, যা তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আরেকটি স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় কেপ ভার্দে। সাহসী ফুটবল খেলতে শুরু করে আফ্রিকার দলটি। ৫৯ মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের দারুণ গোলে সমতায় ফেরে তারা। এরপর আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালালেও নির্ধারিত সময়ে আর গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৯২ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। কিন্তু কেপ ভার্দে আবারও দেখিয়ে দেয়, তারা শেষ বাঁশি বাজার আগে হার মানতে রাজি নয়। ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেস কাবরালের দুর্দান্ত গোলে আবারও সমতায় ফেরে দলটি।
ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, তখন ১১১ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে শক্তিশালী হেডে জাল খুঁজে নেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। তাঁর সেই গোলই শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে স্বস্তির জয় এনে দেয়।
পরিসংখ্যানে আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনারই। বলের দখল, আক্রমণ, শট ও কর্নার—সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল তারা। তবে পরিসংখ্যানের বাইরে সাহস, আত্মবিশ্বাস ও লড়াকু মানসিকতায় কেপ ভার্দে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দেয়।
এই জয়ে আর্জেন্টিনা শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও কেপ ভার্দে বিদায় নিয়েও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। ফলাফলে হারলেও তাদের সাহসী পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত লড়াই হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সম্পাদক : বাতেনুজ্জামান জুয়েল
Copyright © 2025 দেশবাংলা সংবাদ All rights reserved.