ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। নব্বই মিনিটের লড়াই, অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকার—যে কোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে ভাগ্যের চাকা। আর সেই রোমাঞ্চ নিয়েই আজ ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টি আটলান্টার মাঠে। মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিনিধি মিশর।
এক পাশে লিওনেল মেসি। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা শিল্পী, যার একটি স্পর্শই বদলে দিতে পারে ম্যাচের গতি। অন্য পাশে মোহাম্মদ সালাহ। গতি, দক্ষতা ও দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে যিনি বহুবার প্রতিপক্ষকে স্তব্ধ করেছেন। আজ এই দুই মহাতারকার লড়াই শুধু ব্যক্তিগত নয়, দুই জাতির কোটি কোটি স্বপ্নেরও লড়াই।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আর্জেন্টিনা বুঝেছে, বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। তাই স্কালোনির দল আজ শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাইবে। মাঝমাঠে দ্রুত পাসের আদান-প্রদান, উইং দিয়ে আক্রমণ এবং মেসির সৃজনশীলতাই হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
অন্যদিকে মিশর আসছে আত্মবিশ্বাসের ডানা মেলে। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠা দলটি জানে, তাদের হারানোর খুব বেশি প্রত্যাশা নেই। আর সেই চাপমুক্ত মানসিকতাই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি। সালাহর গতিময় দৌড়, পাল্টা আক্রমণ এবং দৃঢ় রক্ষণভাগ দিয়ে আর্জেন্টিনাকে চমকে দিতে চাইবে তারা।
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, নকআউট পর্বে নামের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে সাহস, শৃঙ্খলা আর মুহূর্তকে কাজে লাগানোর ক্ষমতা। তাই কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও মিশরকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
আজকের ম্যাচটি শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়; এটি দুই মহাদেশের ফুটবল দর্শনের সংঘর্ষ, দুই কিংবদন্তির নেতৃত্বের পরীক্ষা এবং কোটি সমর্থকের আবেগের উৎসব।
শেষ বাঁশি বাজার পর কে হাসবে? মেসির আকাশি-সাদা আর্জেন্টিনা, নাকি সালাহর নেতৃত্বে মিশর? উত্তর মিলবে আজ রাতের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—ফুটবলপ্রেমীরা উপহার পেতে চলেছেন বিশ্বকাপের আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচ।
সম্পাদক : বাতেনুজ্জামান জুয়েল
Copyright © 2025 দেশবাংলা সংবাদ All rights reserved.