স্টাফ রিপোর্টার,কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রাম-২৫,১ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জমে উঠেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় ডা. ইউনুসের নাম নিয়েও চলছে আলোচনা। গরিব, অসহায় ও মেহনতি মানুষের পাশে থাকা এবং দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততাকে নিজের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। স্থানীয় একটি অংশের দাবি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
ভিতরবন্দ ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা ডা. ইউনুসকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দেখতে আগ্রহী। তাঁদের মতে, সৎ, যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থী হিসেবে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নির্বাচনে ভালো ফল করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যে যোগাযোগ রয়েছে, সেটিকে তাঁরা সম্ভাব্য নির্বাচনী শক্তি হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, “ডা. ইউনুস সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। বিএনপি তাঁকে মনোনয়ন দিলে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন বলে আমরা মনে করি।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের এমন প্রত্যাশা ও মতামত এখনই ভোটের ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না। নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে দলীয় মনোনয়ন, সাংগঠনিক শক্তি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অবস্থান, নির্বাচনী পরিবেশ এবং ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
‘মনোনয়ন পেলে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’
নিজেকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে ডা. ইউনুস বলেন, বিএনপি তাঁকে কুড়িগ্রাম-২৫,১ আসনে মনোনয়ন দিলে তিনি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিই নির্বাচনের মাঠে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি বলেন, মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের অংশ। দলীয় মনোনয়ন পেলে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান তিনি।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
আসনটিতে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চললেও বিএনপির পক্ষ থেকে ডা. ইউনুসকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দলটির চূড়ান্ত প্রার্থী বলা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু এ দুটি বিষয় দিয়ে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় না। দলীয় অবস্থান, তৃণমূলের সাংগঠনিক সক্ষমতা, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, প্রতিদ্বন্দ্বীদের শক্তি এবং ভোটারদের মনোভাব—সবকিছুর ওপর নির্ভর করবে নির্বাচনের চূড়ান্ত সমীকরণ।
ফলে ডা. ইউনুসকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হওয়া আলোচনা এখন সম্ভাব্য প্রার্থিতার পর্যায়েই রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনী মাঠে তাঁর প্রকৃত অবস্থানই শেষ পর্যন্ত বলে দেবে, জনসম্পৃক্ততার এই দাবি কতটা ভোটে রূপ নেয়।
সম্পাদক : বাতেনুজ্জামান জুয়েল
Copyright © 2025 দেশবাংলা সংবাদ All rights reserved.