বাতেনুজ্জামান জুয়েল
হিমেল হাওয়ার নীরব ছোবলে কাঁপছে গোটা দেশ। ভোরের কুয়াশা আর রাতের হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলেও অনুভূত হচ্ছে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৮ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে, কোথাও কোথাও তার চেয়েও নিচে।
এই শীত সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে গরিব ও ছিন্নমূল মানুষের জীবনে। ফুটপাথ, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল কিংবা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো মানুষগুলোর জন্য শীত যেন এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা। ছেঁড়া কাঁথা কিংবা পাতলা কাপড় গায়ে জড়িয়ে তারা লড়ছে বেঁচে থাকার যুদ্ধে। শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট যেন আরও প্রকট—জ্বর, সর্দি-কাশি আর নিউমোনিয়ার ঝুঁকিতে দিন কাটছে অনেকের।
দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মানুষের কাজেও পড়েছে শীতের প্রভাব। কুয়াশার কারণে সকালবেলা কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে, ফলে কমে যাচ্ছে দৈনিক আয়। অনেক পরিবারে একবেলা খাবার জোটানোই হয়ে উঠছে কঠিন। শীতের সঙ্গে সঙ্গে যেন নেমে এসেছে জীবনের ওপর এক অদৃশ্য অথচ নির্মম চাপ।
এদিকে শীতজনিত রোগে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শীত প্রকৃতির নিয়ম, কিন্তু এই শীত যখন মানুষের মৌলিক মানবিক চাহিদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে, তখন তা আর শুধু ঋতু থাকে না—তা হয়ে ওঠে এক নীরব দুর্যোগ। প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ, সহমর্মিতা আর মানবিকতার উষ্ণ হাত, যাতে এই শীতে কেউ একা পড়ে না থাকে।
সম্পাদক : বাতেনুজ্জামান জুয়েল
Copyright © 2025 দেশবাংলা সংবাদ All rights reserved.