
নিজস্ব প্রতিবেদক,দনিয়া ঢাকা।
রাজধানী ঢাকার দনিয়ার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মিজানুর রহমান নান্নু আর নেই। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তাঁর মৃত্যুর সংবাদে বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। প্রিয় শিক্ষককে হারিয়ে অনেকের চোখে অশ্রু, মনে শুধু স্মৃতির ভিড়।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে মিজানুর রহমান নান্নু অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়েছেন। শ্রেণিকক্ষে তাঁর পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি স্নেহময় আচরণ, শাসনের আড়ালে থাকা মমতা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক তাঁকে সবার কাছে আলাদা করে তুলেছিল। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি শুধু বইয়ের পাঠই শেখাননি; শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
তাঁর চলে যাওয়ায় যেন প্রতিষ্ঠানের পরিচিত একটি কণ্ঠ হঠাৎ নীরব হয়ে গেল। যে শ্রেণিকক্ষে তাঁর কণ্ঠে পাঠের ধ্বনি শোনা যেত, সেখানে এখন তাঁর অনুপস্থিতিই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন আপনজন, আর অসংখ্য শিক্ষার্থীর কাছে প্রিয় ‘নান্নু স্যার’—যাঁর স্নেহ ও পরামর্শ তাদের জীবনের পথচলায় স্মৃতি হয়ে থাকবে।
শিক্ষকের মৃত্যুতে শোকাহত সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে যেন একই কথা—একজন শিক্ষক চলে গেলেও তাঁর হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের মাঝে তাঁর আদর্শ ও স্মৃতি বেঁচে থাকে। তাই মিজানুর রহমান নান্নুর বিদায় কেবল একজন মানুষের বিদায় নয়; এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিয় একজন অভিভাবকসুলভ মানুষের শূন্যতা।
মরহুমের মৃত্যুতে বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
মহান আল্লাহ যেন এই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষককে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করেন—এই প্রার্থনাই এখন তাঁর প্রিয় শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের।
Leave a Reply