
রংপুর বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া
কুড়িগ্রামে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোববার সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভায় মোট ৫৬৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মণ্ডপে পূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উৎসবকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান, কুড়িগ্রাম বিজিবির প্রতিনিধি ও ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক এস এ মাহাবুব উল আলম এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) উপপরিচালক আনিসুর রহমান।
রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব এবং জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন। গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার।
সভায় দুর্গোৎসব চলাকালে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দর্শনার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, কুড়িগ্রামের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে সব উৎসব উদযাপন নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। আসন্ন দুর্গোৎসব যাতে সবাই শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন-সংশ্লিষ্ট কমিটি এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগে জেলার ৫৬৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
Leave a Reply