
সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শান্ত-পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
জমি বেদখলের দেড় যুগ। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও ৫৭ শতক ফিরে পাচ্ছিলেন না আসাদুজ্জামান, আরিফুজ্জামান ও তানজিনা বেগম গং মালিকরা। অবশেষে মামলার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৮ বছরের আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশে ৫৭ শতক জমির দখল ফিরে পেয়েছেন প্রকৃত এই জমির মালিকরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নে মাঝগ্রামে ঢাকঢোল পিটিয়ে এবং লাল নিশান উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জমির দখল হস্তান্তর করা হয়।
দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পঞ্চগড় সিভিল জজ আদালতের জারিকারক কমল চন্দ্র সেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় বিতর্কিত ওই জমিতে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশান স্থাপনের মাধ্যমে আসাদুজ্জামান গংদের দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
জমির মালিকানা ফিরে পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- দেবনগর ইউনিয়নের মাঝগ্রাম এলাকার আসাদুজ্জামান, আরিফুজ্জামান ও তানজিনা বেগম গং মালিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবনগর ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী মৌজার দুটি খতিয়ানের ৫৭ শতক জমির মালিকানা নিয়ে মাঝগ্রামের আসাদুজ্জামান গংদের সঙ্গে বিবাদী পক্ষ কলেজপাড়া এলাকার খতিবর রহমান গংদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে আদালতে মামলা চলমান ছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পঞ্চগড় বিজ্ঞ সিভিল আদালত ২০২৪ সালের ২৯/২০২৪ বাটোয়ারা নম্বর মোকদ্দমায় আসাদুজ্জামান, আরিফুজ্জামান ও তানজিনা বেগম গংদের জমির বৈধ মালিক হিসেবে ডিক্রি প্রদান করেন। বিবাদীপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করলেও, তা খারিজ হয়ে যায়। এতে করে দীর্ঘ দেড় যুগ পর জমির দখল বুঝে নেওয়ার পথ সুগম হয়।
দখল ফিরে পেয়ে উচ্ছসিত আসাদুজ্জামান জানান, বাবার মৃত্যুর পর জমিগুলো বেখল নেয় খতিবর রহমান গংরা। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আমরা এই জমির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। ২০০৮ সালে মামলার পর দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ে আজ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞ।
এদিকে দখল পাওয়া জমিতে আমন ফসল থাকায় তা তাৎক্ষণিক সরিয়ে নিতে বলা হয়। তবে মানবিক দৃষ্টিতে ফসলগুলোর উৎপাদন খরচ কৃষকদের প্রদান করার অঙ্গীকার করেন দখল পাওয়া মালিকরা। তবে আদালতের রায়ের পর দখলসত্ব বুঝিয়ে দেয়ার পর বিবাদীরা উক্ত জমিতে আর অনুপ্রবেশ করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন আদালতের প্রতিনিধি দল।
আদালতের জারিকারক কমল চন্দ্র সেন জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত স্বত্বাধিকারীদের ৫৭ শতক জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শান্তি -শৃঙ্খলা বজায় রেখে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শান্ত
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
১৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং
Leave a Reply