
সম্পাদকীয়
আজ শুভ বিজয়া দশমী। শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দময় দিনগুলোর অবসানে চারদিকে বেজে উঠেছে বিদায়ের সুর। প্রতিমা বিসর্জনের বিষাদে মিশে আছে ফিরে আসার প্রত্যাশা, বিদায়ের অশ্রুতে জড়িয়ে আছে মিলনের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বিজয়া কেবল একটি উৎসবের সমাপ্তি নয়; এটি অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের শপথ এবং মানবতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান।
দেবী দুর্গার অসুরবধ আমাদের শেখায়—অন্যায়, অহংকার ও অশুভ শক্তি যত প্রবলই হোক, সত্য ও ন্যায়ের জয় অনিবার্য। অথচ আমাদের সমাজে আজও ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা মানুষের মধ্যে বিভেদের দেয়াল তোলে। এই অন্ধকার দূর করতে হলে শুধু উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় যথেষ্ট নয়; হৃদয়ে ধারণ করতে হবে সম্প্রীতি, আচরণে প্রমাণ করতে হবে মানবতা, আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে বিবেকের শক্তিতে।
বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের, সব মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। ধর্মের ভিন্নতা যেন কখনো ভালোবাসার পথে বাধা না হয়। একজনের উৎসব হয়ে উঠুক অন্যজনের আনন্দ, একজনের বিপদে এগিয়ে আসুক সবার হাত। ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত হোক প্রতিটি নাগরিকের। কারণ, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মানবিকতা; ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো বিভাজন আর ঘৃণার চেয়ে বড় কোনো পরাজয় নেই।
বিজয়ার প্রকৃত শিক্ষা এখানেই—প্রতিমা বিসর্জিত হবে নদীর জলে, ঢাকের বাদ্য থামবে, উৎসবের আলোকসজ্জা নিভে যাবে; কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে যেন কখনো বিসর্জিত না হয় ভালোবাসা। উৎসবের সার্থকতা শুধু আনুষ্ঠানিকতায় নয়, বরং মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক বন্ধনে। বিদায়ের এই দিনে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক, ঘৃণার বদলে ভালোবাসা, বিভেদের বদলে সম্প্রীতি এবং প্রতিহিংসার বদলে সহমর্মিতাকে বেছে নেওয়া।
দৈনিক দেশবাংলা সংবাদের পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশ-বিদেশের সবাইকে জানাই শুভ বিজয়ার আন্তরিক শুভেচ্ছা। সবার জীবন ভরে উঠুক শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধিতে। সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকুক, মানবতার পতাকা উড্ডীন হোক।
অশুভের বিনাশ হোক, শুভ শক্তির জয় হোক। বিদায়ের অশ্রু মুছে যাক ভালোবাসার স্পর্শে। প্রতিমা বিসর্জিত হোক জলে, সম্প্রীতি বেঁচে থাকুক হৃদয়ে—মানবতার আলোয় উদ্ভাসিত হোক প্রিয় বাংলাদেশ।
Leave a Reply