
স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ডায়েট (পথ্য) সরবরাহের টেন্ডার নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সংবাদে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও কমিশন বাণিজ্যের যে অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও একপেশে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, নতুন অর্থবছরে কোনো টেন্ডার আহ্বান না করেই পূর্বের ঠিকাদারকে বহাল রেখে সরকারি বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ডায়েট সরবরাহ ও বিল পরিশোধের কার্যক্রম কোনো ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয় না। সরকারি বিধি-বিধান, অনুমোদিত প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করেই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।
হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক জানান, তিনি তুলনামূলকভাবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর ডায়েট সরবরাহসংক্রান্ত পূর্ববর্তী নথিপত্র ও কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছেন। নথিপত্র পর্যালোচনায় কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে হিসাবরক্ষক রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে কমিশন গ্রহণ কিংবা সরকারি অর্থ অবৈধভাবে পাস করার যে দাবি করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপন করা অনভিপ্রেত।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, রোগীদের পথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান বজায় রাখা এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। ডায়েট সরবরাহের বিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরই পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
এদিকে প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের মতে, প্রকৃতপক্ষে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডায়েট টেন্ডার, সরবরাহ ও বিল পরিশোধসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্রক যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই বা তদন্তে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সঠিক তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন সংবাদ প্রকাশ না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply