শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাদারীপুরে পুলিশের গাড়ি উল্টে কনস্টেবলের মৃত্যু পুঠিয়ায় এসিল্যান্ডের মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট, মাদকসেবীর ৩ মাসের কারাদণ্ড* সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় মোহনগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ মিছিল রাজৈরে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দোয়া মাহফিল ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে পথসভা, নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান গোদাগাড়ীতে ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার রাজৈরে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন রংপুর বিভাগে হোমিওপ্যাথিক শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে আলোচনায় ডা. রীনু বেগ নির্বাচিত হলে ১০ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তে বিপুল পরিমান ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ

পালংখালীর সীমান্তে আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত ৪ জেলের ২ বছরেও সন্ধান নেই ফেরার অপেক্ষায় স্বজনরা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৮ Time View


‎ দেলোয়ার হোসেন রশিদী চট্টগ্রাম


‎কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের মেদাই খাল থেকে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধারের পর কেটে গেছে প্রায় দুই বছর। তবে এখনো সন্ধান মেলেনি বাকি চার জেলের। তারা জীবিত না মৃত—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্যও না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাদের স্বজনরা।

‎পরিবারের সদস্যদের দাবি, ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর জীবন-জীবিকার তাগিদে পালংখালী ইউনিয়নের আনজুমান পাড়া সীমান্তসংলগ্ন মেদাই খালে মাছ ধরতে যান পাঁচ জেলে। এ সময় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎অপহৃত পাঁচ জেলের মধ্যে ছৈয়দুল বশরের গুলিবিদ্ধ মরদেহ আটকের দুই দিন পর নাফ নদীর উপশাখা মেদাই খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে উখিয়া থানা পুলিশ মরদেহটি তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। তবে বাকি চার জেলের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

‎নিখোঁজ চার জেলের মধ্যে রয়েছেন পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা আনজুমান পাড়া এলাকার জিয়াবুলের ছেলে সাইফুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদের ছেলে লুৎফর রহমান (২২), মঞ্জুর আলমের ছেলে মো. ইউসুফ এবং আব্দুল্লাহর ছেলে ইউসুফ জালাল।

‎নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের প্রিয়জনদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় প্রতিদিনই নতুন করে উৎকণ্ঠা তৈরি হচ্ছে। তারা এখনো বিশ্বাস করেন, তাদের স্বজনরা জীবিত থাকলে একদিন ফিরে আসবেন। সেই আশায় পথ চেয়ে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

‎এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্তে মাছ ধরা ও জীবিকার কাজে যাতায়াতকারী জেলেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

‎পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “দুই বছর আগে আনজুমান পাড়ার পাঁচ জেলে খালে মাছ ধরতে গেলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়। দুই দিন পর একজনের মরদেহ পাওয়া যায়। অনেক চেষ্টা করেও বাকি চারজনকে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি।”

‎তিনি আরও বলেন, রাখাইন রাজ্য মিয়ানমার সরকারের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে প্রচলিত প্রক্রিয়ায় পতাকা বৈঠক করাও সম্ভব হচ্ছে না। অপহৃত চার জেলেকে ফিরিয়ে আনতে তাদের স্বজনরা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, উখিয়ার ৬৪ বিজিবি ও টেকনাফের ২ বিজিবির কার্যালয়ে আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি।

‎এ বিষয়ে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, আরাকান আর্মির হাতে আটক চার জেলে এখনো ফিরে আসেননি—বিষয়টি প্রশাসনের জানা রয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনী কাজ করছে। নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষ থেকে জিডির কপি বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের কাছে দিলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

‎দুই বছর ধরে নিখোঁজ চার জেলের পরিবার এখন একটাই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন—তাদের স্বজনরা কোথায়, কী অবস্থায় আছেন এবং আদৌ কি ফিরবেন ঘরে? এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান ও দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category