
বাতেনুজ্জামান জুয়েল
মানবসভ্যতার ইতিহাসে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্তগুলোর একটি হলো রক্তদান। অর্থ, সম্পদ কিংবা সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা থাকলেও সুস্থ একজন মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করে অন্য একজনের জীবন বাঁচানোর সুযোগ পান। তাই রক্তদান শুধু একটি মানবিক কাজ নয়, এটি জীবন রক্ষার এক অনন্য অঙ্গীকার।
আজ বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। এ দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রতিনিয়ত কেউ একজন নিরাপদ রক্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, প্রসূতি মা, থ্যালাসেমিয়া রোগী কিংবা জটিল অস্ত্রোপচারের রোগীদের কাছে এক ব্যাগ রক্ত নতুন জীবনের বার্তা নিয়ে আসে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে এখনো প্রয়োজনের তুলনায় স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা যথেষ্ট নয়। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর স্বজনদের জরুরি ভিত্তিতে রক্ত সংগ্রহে হিমশিম খেতে হয়। অথচ নিয়মিত ও স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে এই সংকট অনেকাংশে দূর করা সম্ভব।
রক্তের কোনো কৃত্রিম বিকল্প নেই। বিজ্ঞান যতই এগিয়ে যাক, মানুষের জীবন রক্ষায় মানুষের রক্তের প্রয়োজন আজও অনস্বীকার্য। তাই রক্তদানকে ভয় বা কুসংস্কারের চোখে না দেখে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে আরও ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
এক ফোঁটা রক্ত কখনো কখনো একটি পরিবারের চোখের জল মুছে দিতে পারে। মানবতার এই মহৎ কর্মে আরও বেশি মানুষ এগিয়ে আসুক— বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
— সম্পাদক
দৈনিক দেশবাংলা সংবাদ।
Leave a Reply