
বাতেনুজ্জামান জুয়েল :
তিন আসনে মনোনয়ন বিস্ফোরণ, ভোটের মাঠে মুখোমুখি ২৭ যোদ্ধা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মাদারীপুরে শুরু হয়ে গেছে ক্ষমতা দখলের সর্বাত্মক যুদ্ধ।
গত সোমবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ২৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।
মনোনয়ন জমার দিনেই জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকা রূপ নেয় রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে—স্লোগান, ভিড় ও কড়া নিরাপত্তায় থমথমে হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর-১ আসনে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এ আসনে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা হলেন— বিএনপির নাদিরা আক্তার, জামায়াতে ইসলামীর সরোয়ার হোসেন মৃধা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আকরাম হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. জহিরুল ইসলাম মিন্টু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা, গণঅধিকার পরিষদের রাজিব মোল্লা, লেবার পার্টির হাফিজুর রহমান, কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল আলী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী, কামাল জামান মোল্লা ও ইমরান হোসেন। যদিও এ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ১৩ জন।
মাদারীপুর-২ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে নেমেছেন ১০ জন প্রার্থী। তালিকায় রয়েছেন— বিএনপির জাহান্দার আলী মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আহমাদ চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আব্দুস সোবাহান, জাতীয় পার্টির মো. মহিদুল ইসলাম (মুহিত হাওলাদার), কল্যাণ পার্টির সুবল চন্দ্র মজুমদার, সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের দিদার হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য, শহিদুল ইসলাম খান, মুহা. কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী ও মো. রেয়াজুল ইসলাম। এ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ১৪ জন।
অন্যদিকে মাদারীপুর-৩ আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ভোটযুদ্ধের ময়দানে নামেন। তারা হলেন— বিএনপির আনিসুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো. রফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আজিজুল হক, বাসদের আমিনুর ইসলাম, সুপ্রিম পার্টির নিতাই চক্রবর্তী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান পলাশ। এখানে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ১০ জন।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করবে। আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে।”
মনোনয়ন জমার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট— মাদারীপুরে এবারের নির্বাচন হবে বহুদলীয়, সংঘাতপূর্ণ ও হাড্ডাহাড্ডি। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলে মাঠে নামবে পূর্ণ শক্তির প্রচারণা, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও শক্তি প্রদর্শন। সব মিলিয়ে মাদারীপুর এখন জাতীয় রাজনীতির এক স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষেত্র।
Leave a Reply