
বাতেনুজ্জামান জুয়েল
ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো আজ। তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথ অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিচারপতি, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেন। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন, যারা সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পালন করবেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে। দলীয় সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ বিজয় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ তারেক রহমানের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। প্রায় ১৭ বছর বিদেশে অবস্থানের পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এসে দলকে নির্বাচনে নেতৃত্ব দেন এবং শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনে সফল হন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন সরকারের প্রতি আগ্রহ দেখা গেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়ে তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন গতি পেতে পারে।
নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম বক্তব্যে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
Leave a Reply