বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে চিকিৎসা বঞ্চিতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং ঔষধ প্রদাণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা মেয়ে সহ তিন জনের মৃত্যু উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিতে উলিপুর, চিলমারী ও রাজারহাটে এলজিইডির নিবিড় তদারকি রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ভুল সংশোধনে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এসি (ল্যান্ড) শিবু দাশ রাজশাহীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ গ্রাম হেরোইন ও মোটরসাইকেলসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার মাদারীপুরে পারিবারিক কলহে ঘুমন্ত স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা, স্বামী আটক মেসির শেষ বিশ্বকাপের সূর্যাস্ত, নাকি স্পেনের নতুন সূর্যোদয়? ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আজকের মহারণে দারাদিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ড্রেজার ধ্বংস রাজৈরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ‘জুলাই শহীদ দিবস’ শিশুর কান্না যেন আর না শোনা যায়

গোদাগাড়ীতে সরকারি খাস সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা, কোর্টের স্থগিতাদেশ না থাকলেও ঝুলে আছে ডিসির উচ্ছেদ আদেশ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৮৫ Time View

 

মোঃ রাজু, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোহরাপুর মৌজার সরকারি খাস জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে করা লিখিত অভিযোগের সাড়ে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি জেলা প্রশাসকের জারি করা উচ্ছেদ আদেশ। আদালতের পক্ষ থেকেও কোনো স্থগিতাদেশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে না পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া গেলেও উচ্ছেদ কার্যক্রম ঝুলে থাকায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, মোঃ তরিকুল ইসলাম গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করে অভিযোগ করেন যে, গোদাগাড়ী উপজেলার ২৩০ নং মোহরাপুর মৌজার আর.এস ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত হাল ৫৭ ও ৫৮ নং দাগের শ্রেণী পুকুর ও পুকুরপাড়ে মোঃ দুরুল হুদা অবৈধভাবে আর.সি.সি. পিলার নির্মাণ করে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তিনি ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ নজরুল ইসলাম বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে নির্দেশ প্রদান করেন।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাঃ তাছমিনা খাতুন উচ্ছেদ কেসনথি প্রস্তুত করে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জানে আলম এর মাধ্যমে ২৮ জুলাই ২০২২ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য অনুরোধ জানান।

দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার সাক্ষরিত অফিস আদেশ জারি করে সরকারি জমিতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়।

এরপর ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ বিকেলে গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল ইসলাম পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন। তবে অভিযুক্ত দখলদার আদালতে মামলা করেছেন বলে কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করলে তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। অভিযোগকারী মোঃ তরিকুল ইসলামের দাবি, সে সময় এসিল্যান্ড তাকে বলেন যে, এসব মামলা হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকতে পারে এবং মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে।

তবে এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও উচ্ছেদ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় অভিযোগকারী সম্প্রতি রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোঁজ নেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান যে, আদালত থেকে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত করার মতো কোনো আদেশ বা কোর্টের কোনো নির্দেশনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এখন পর্যন্ত পৌঁছেনি।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে না পৌঁছালে এবং জেলা প্রশাসকের জারি করা উচ্ছেদ আদেশ বহাল থাকলে উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ কী?

এই বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) শামসুল ইসলাম বলেন,‌উচ্ছেদ করতে আমরা স্পটে গিয়েছিলাম। এটা নিয়ে কোর্টে মামলা চলমান থাকায় স্থগিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ডিসি অফিসে রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। মামলার কপি এবং আদালতের স্থগিতাদেশের কপি আছে কি না জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট থেকে কোন জবাব পাওয়া যায়নি ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুরুল হুদা বলেন, “উচ্ছেদের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি কোনো মামলাও করিনি। এসিল্যান্ড, সার্ভেয়ার আসে-যায়, এভাবেই চলছে। এখন যদি সরকার উচ্ছেদ করে তাহলে কার কী করার আছে? উচ্ছেদ করলে করবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি খাস জমিটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তারা দ্রুত জেলা প্রশাসকের জারি করা উচ্ছেদ আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম-এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category