
ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই আবেগ, উত্তেজনা আর ইতিহাস লেখার মঞ্চ। সেই মঞ্চেই আজ আবার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স এবং আফ্রিকার লড়াকু প্রতিনিধি মরক্কো। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টায় শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত কোয়ার্টার ফাইনালের এই লড়াই। নব্বই মিনিটের যুদ্ধ শেষে এক দল এগিয়ে যাবে সেমিফাইনালে, অন্য দলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন থেমে যাবে সেখানেই।
এই ম্যাচ শুধুই একটি কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, এটি স্মৃতিরও পুনর্জন্ম। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মরক্কোর। চার বছর পর সেই ক্ষত বুকে নিয়েই আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে দাঁড়িয়েছে আফ্রিকার এই দুর্দান্ত দল। প্রতিশোধের তীব্র আকাঙ্ক্ষা আর ইতিহাস বদলে দেওয়ার সাহস—দুটোই থাকবে মরক্কোর প্রেরণার উৎস।
অন্যদিকে ফ্রান্স নামছে নিজেদের ঐতিহ্য ও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লক্ষ্যে। কিলিয়ান এমবাপ্পের বিস্ফোরক গতি, মাইকেল অলিসের সৃজনশীলতা, উসমান দেম্বেলের ডান প্রান্তের আক্রমণ এবং শক্তিশালী মধ্যমাঠ ফরাসিদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতাও তাদের অন্যতম শক্তি।
মরক্কো অবশ্য বারবার প্রমাণ করেছে, তারকা নয়—দলগত ঐক্যই তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে দুর্দান্ত রক্ষণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। নেদারল্যান্ডস ও কানাডাকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলটি আরও একটি চমকের অপেক্ষায়।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কাগজে-কলমে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বে অতীতের পরিসংখ্যান খুব কমই কাজে আসে। একটি মুহূর্ত, একটি ভুল কিংবা একটি অসাধারণ সিদ্ধান্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের ভাগ্য।
এদিকে এই মহারণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা রেফারিংকে ঘিরে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে রেফারির প্রতিটি বাঁশি, প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং VAR-এর প্রতিটি হস্তক্ষেপ ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তাই বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর একটাই প্রত্যাশা—কোনো বিতর্ক নয়, কোনো পক্ষপাতের অভিযোগ নয়; প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন হয় নিরপেক্ষ, ন্যায়সংগত এবং ফুটবলের আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে। ফ্রান্স কিংবা মরক্কো—কোনো দলের পক্ষেই যেন রেফারির সিদ্ধান্ত প্রভাব না ফেলে। মাঠের লড়াইয়ের প্রকৃত শ্রেষ্ঠ দলটিই যেন সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
রাতের শেষ বাঁশি বাজার পর একজনের মুখে থাকবে বিজয়ের হাসি, অন্যজনের চোখে থাকবে অপূর্ণ স্বপ্নের বেদনা। তবে ফল যাই হোক, ফুটবলপ্রেমীরা প্রত্যাশা করছেন একটি উচ্চমানের, উপভোগ্য এবং বিতর্কমুক্ত ম্যাচ, যেখানে জয়ী হবে সুন্দর ফুটবল।
Leave a Reply