
বাতেনুজ্জামান জুয়েল
একটি জাতির বিবেককে জাগিয়ে তোলার জন্য কখনো কখনো একটি শিশুর কান্নাই যথেষ্ট। নরসিংদীর সেই নিষ্পাপ শিশুর আর্তনাদ আজ শুধু একটি পরিবারের নয়, সমগ্র মানবতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে।
যে হাত শিশুকে আদর করার কথা, সেই হাত যদি নির্যাতনের অস্ত্র হয়ে ওঠে, তবে সভ্যতার সমস্ত অহংকার মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায়। আত্মীয়তার বন্ধন তখন আর ভালোবাসার আশ্রয় থাকে না; তা পরিণত হয় আতঙ্কের আরেক নাম। পারিবারিক বিরোধ, ক্ষোভ কিংবা প্রতিশোধ—কোনো কিছুরই লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না একটি অবুঝ শিশু। শিশুর হাসিই পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল ভাষা; সেই হাসি কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
নরসিংদীর ঘটনাটি শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, এটি আমাদের নৈতিকতারও কঠিন পরীক্ষা। যে সমাজে একটি শিশু নিজের ঘরেই নিরাপদ নয়, সে সমাজকে নতুন করে আত্মসমালোচনা করতে হবে। আইন অবশ্যই তার নিজস্ব গতিতে চলবে, অপরাধী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে—এটাই প্রত্যাশা। কিন্তু শুধু শাস্তি দিলেই দায় শেষ হবে না; পরিবারে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও শিশুদের প্রতি মমত্ববোধ জাগিয়ে তোলাও সমান জরুরি।
আজ আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে প্রযুক্তি অপরাধের প্রমাণ তুলে ধরছে; কিন্তু প্রযুক্তির চেয়েও বেশি প্রয়োজন মানুষের হৃদয়ে মানবতার আলো জ্বালানো। কোনো শিশুর কান্না যেন আর গোপনে দেয়ালের আড়ালে হারিয়ে না যায়, কোনো নিষ্পাপ জীবন যেন আর বড়দের হিংসা-বিদ্বেষের শিকার না হয়।
আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি—প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে। কারণ শিশুর হাসি বাঁচলে তবেই বাঁচবে আমাদের ভবিষ্যৎ; শিশুর নিরাপত্তাই একটি সভ্য জাতির সবচেয়ে বড় পরিচয়।
Leave a Reply