
মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া | স্টাফ রিপোর্টার
কুড়িগ্রামের উলিপুর, চিলমারী ও রাজারহাট উপজেলায় চলমান বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী। সোমবার দিনব্যাপী এ পরিদর্শনে তিনি বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট এবং বাজার সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও মান যাচাই করেন।
পরিদর্শনকালে নির্বাহী প্রকৌশলী সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের বর্তমান অগ্রগতি, নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান, কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাতে অনুমোদিত নকশা ও কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতেই মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কোথাও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার বা কাজের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ তিন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এসব সড়ক ব্যবহার করে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এসব অবকাঠামোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজের সঙ্গে আপস করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত তদারকি থাকলে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন হয় এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এ লক্ষ্যেই মাঠপর্যায়ে সরাসরি উপস্থিত থেকে কাজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তবে সীমান্ত ও দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের সুবিধার জন্য আরও নতুন সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে ধারাবাহিক তদারকি ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা বজায় থাকলে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নের সুফল আরও দ্রুত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
Leave a Reply