
দেলোয়ার হোসেন রশিদী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের রশিদের ঘোনা সংলগ্ন চাকফিরানী মৌজায় বাংলাদেশ সরকারের উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত ২৮টি ঘরের মধ্যে বেশির ভাগ ঘরেই নিয়মিত বসবাসের চিত্র নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি ঘরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন উপকারভোগীরা। বাকি অনেক ঘরই দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ কিংবা জনশূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
প্রকল্পে বসবাসরত কয়েকজন উপকারভোগী জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন বা বসবাস যাচাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু তালাবদ্ধ ঘরে সাময়িকভাবে লোকজন এসে অবস্থান করেন। পরিদর্শন শেষ হলে পরদিনই তারা আবার চলে যান। ফলে অধিকাংশ সময় এসব ঘর ফাঁকাই পড়ে থাকে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের অন্তত ৬টি ঘর দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ রয়েছে। পাশের ঘরে বসবাসকারী বাসিন্দাদের ভাষ্য, এসব ঘর তারা কোনো দিন খোলা অবস্থায় দেখেননি। এমনকি ঘরগুলোতে বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও কখনো স্থায়ীভাবে বসবাস করতে দেখেননি।
এদিকে আশ্রয়ণের বাইরে আধুনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এখনও অনেক প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের অনেকেরই মাথা গোঁজার স্থায়ী কোনো আশ্রয় নেই। অথচ সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশ্রয়ণের কিছু ঘর বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্যই হলো প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া। তাই দীর্ঘদিন ধরে যেসব ঘর পরিত্যক্ত বা ব্যবহারবিহীন রয়েছে, সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘরে প্রকৃত উপকারভোগী বসবাস করছেন কি না তা সরেজমিনে যাচাই করে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও ব্যবহারবিহীন ঘরগুলো বাতিলপূর্বক আধুনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় পরিবারের মধ্যে পুনরায় বরাদ্দ দেওয়া হোক।
এতে একদিকে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে, অন্যদিকে প্রকৃত গৃহহীন পরিবারগুলোও একটি নিরাপদ স্থায়ী আবাসনের সুযোগ পাবে।
Leave a Reply