
এস এম সাখাওয়াত জামিল দোলন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চলতি বছরের প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল পর্যবেক্ষণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চারটি দাখিল মাদ্রাসা থেকে অংশগ্রহণকারী ২৬জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কোন শিক্ষার্থী পাস না করলেও কেবেলমাত্র দুইটি মাদ্রাসার প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. ফারুক আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। শোকজপ্রাপ্ত মাদ্রাসা প্রধানরা হলেন জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ডি.এস দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. রায়হান উদ্দিন এবং নাচোল উপজেলার বকুলতলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার সুলতান আহমেদ।
মাদ্রাসাগুলোর ফলাফল পর্যালোচনায় জানা গেছে, জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ডি.এস দাখিল মাদ্রাসা থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিল ১৬ জন। কিন্তু ২ জন বাদে বাকি ১৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও সবাই ফেল করে। এছাড়া নাচোল উপজেলার বকুলতলা দাখিল মাদ্রাসার ৫ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ জন বাদে ২ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও তারা ফেল করে।
এছাড়া গোমস্তাপুর উপজেলার ব্রঞ্জনাথপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৪ জন পরীক্ষার্থী এবং শিবগঞ্জ উপজেলার নাটোর দাখিল মাদ্রাসা থেকে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষার কেন্দ্রে একজন শিক্ষার্থীও উপস্থিত হননি।
নামমাত্র পরীক্ষার্থী দিয়ে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও পাঠদানের মান নিয়ে অভিভাবকরা বলছেন, নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের একটি বড়ো অংশ বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। আর তাই প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি ও শিক্ষার মানের চরম ঘাটতির কারণে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা এমন ফলাফল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
ফলাফল বিপর্যয় বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানিয়ে বলেন, গোপীনাথপুর ডি.এস দাখিল মাদ্রাসা এবং বকুলতলা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েও শতভাগ ফেল করাটা জেলার জন্য খুবই ডিসক্রেডিট। এ ছাড়া বাকি দুইটি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন করার পরও কেন পরীক্ষায় বসেনি সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে কথা বলা হবে। এছাড়া জেলায় যে সকল প্রতিষ্ঠান খারাপ ফলাফল করেছে তাদের বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার উপযুক্ত কারণ দর্শাতে আগামী ১৭ আগস্ট সোমবার ওই দুই মাদ্রাসা প্রধানকে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে স্বশরীরে উপস্থিত হতে নির্দেশ প্রদাণ করা হয়েছে।
Leave a Reply