
– দেশবাংলা সংবাদ ডেস্ক
প্রযুক্তির বিস্ময় আমাদের হাতের মুঠোয় বিশ্বকে এনে দিয়েছে। এক স্পর্শে যোগাযোগ, জ্ঞান আর তথ্যের আলো ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কিন্তু এই আলোতেই লুকিয়ে রয়েছে এক নীরব ছায়া—মোবাইল ফোনের অপব্যবহার। এই ছায়া প্রতিনিয়ত গ্রাস করছে আমাদের সন্তানদের নির্মলতা, পরিবারের উষ্ণতা এবং সমাজের স্থিরতা। নীরবে, ধীরে, নিশ্চিতভাবে।
আজকের শিশুরা আকাশের নীল ভুলে যাচ্ছে, মাঠের ধুলো ভুলে যাচ্ছে,
পাখির ডাকের বদলে শুনছে গেমের কড়া শব্দ।
রঙিন পর্দার আকর্ষণ তাদের মনোযোগ ও সৃজনশীলতাকে শুষে নিচ্ছে।
শৈশবের মুক্ত বাতাসকে গিলে ফেলছে ক্ষুদ্র এক স্ক্রিন।
একসময় সন্ধ্যায় বাড়ির উঠোনে জমত গল্পগুজব।
সন্তান মায়ের কোলে মুখ লুকাত, বাবা দিনের অভিজ্ঞতা শোনাত।
আজ সেই উঠোনে নীরবতা—
সবার চোখ মোবাইলে,
হৃদয়গুলো একে অপর থেকে দূরে।
মোবাইল আলো দেয়, কিন্তু সম্পর্কের উষ্ণতা কেড়ে নেয়।
মোবাইল এখন তথ্যের উৎস হলেও, তা হয়ে উঠছে গুজবের তীব্র আগুনও।
একটি ভুল তথ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে হাজারো মানুষের মনে।
তরুণ সমাজ হারাচ্ছে আত্মপরিচয়, পথ হারাচ্ছে মূল্যবোধ।
যে নেশা চোখে দেখা যায় না,
যে শৃঙ্খল হাত দিয়ে ছোঁয়া যায় না—
তবুও মানুষকে বন্দি করে রাখে।
আজ মোবাইলই সেই নেশা।
মানুষ মুহূর্তে স্ক্রিনে হারিয়ে যায়,
বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এ যেন ক্ষুদ্র যন্ত্রে আবদ্ধ এক বিশাল বন্দিদশা।
মোবাইল ত্যাগ নয়—
মোবাইলের সঠিক ব্যবহারই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
প্রযুক্তি তখনই আশীর্বাদ, যখন নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতে থাকে।
মোবাইল ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে পারে,
আবার ভবিষ্যতের ওপর অন্ধকারও নামাতে পারে।
এটা আমাদের হাতেই—
আমরা প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করব, নাকি প্রযুক্তি আমাদের গ্রাস করবে।
মানুষের মুখের আলো, সন্তানের হাসি, পরিবারের বন্ধন—
এসবই টিকিয়ে রাখবে সচেতনতা, পরিমিতি এবং দায়িত্ববোধ।
Leave a Reply