মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত আসনে হেলেন জেরিন খান এমপি, উচ্ছ্বসিত মাদারীপুর মোহনগঞ্জে সড়ক নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতা, নীরব প্রশাসন—মৃত্যুঝুঁকিতে মানুষ আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ (রহঃ) মাজার জিয়ারতে দোয়ারাবাজারের নেতৃবৃন্দের সংক্ষিপ্ত সফর খুলনার শিয়ালীতে সনাতন ধর্ম সুরক্ষা পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে সংঘবদ্ধ ডাকাতির তাণ্ডব: ৬ স্বর্ণের দোকান লুট ভোররাতে হাউসদী বাজারে হানা, প্রত্যক্ষদর্শীকে বেঁধে নির্যাতন রাজৈরে পুলিশের জালে ইয়াবা কারবারি, উদ্ধার ১৬৫ পিস দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাচনে আব্দুল বাছিত খানকে আল ইসলাহর পূর্ণ সমর্থন রাঙামাটিতে ৩৪তম নববর্ষ উদযাপন: শোভাযাত্রা ও পান্তা উৎসবে মুখর শহরবাসী শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৈশাখের বর্ণাঢ্য উৎসব—পান্তা-ইলিশ, নাচ-গানে মুখর ক্যাম্পাস

বিয়ের মিছিলে মৃত্যুর ছায়া একই পরিবারের ১২ জনসহ ১৪ জন নিহত, আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হলো লাশের মিছিলে

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ১৪৪ Time View

বাতেনুজ্জামান জুয়েল

একটি বিয়ের আনন্দঘন যাত্রা—যেখানে থাকার কথা ছিল হাসি, গান আর নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রাই মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হলো নিথর দেহের মিছিলে। বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলা এলাকায় খুলনা–মোংলা মহাসড়কে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনী‑এর স্টাফ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৪টি প্রাণ।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নবদম্পতি—বর ও কনে। তাদের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন বরের বাবা, বরের বোন, কনের নানি এবং একই পরিবারের আরও ৮ জনসহ ঘনিষ্ঠ স্বজন। দুর্ঘটনার সময় তারা বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস নিয়ে সবাই বাড়ি ফেরার পথে ছিলেন। গাড়ির ভেতরে তখন ছিল হাসি-আনন্দ, গল্প আর নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু মাঝপথে ঘটে যায় ভয়াবহ সংঘর্ষ। দ্রুতগতির নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষে মুহূর্তেই সবকিছু থেমে যায়।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হলেও অনেককেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মাইক্রোবাসের ভেতরে আটকে থাকা কয়েকজনকে বের করতে স্থানীয়দের বেশ সময় লেগেছে।
একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বাড়িতে কিছুক্ষণ আগেও বিয়ের আনন্দে আলোকসজ্জা ছিল, সেখানে এখন শুধু কান্না আর আহাজারি। আনন্দের সানাই থেমে গিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে স্বজন হারানোর বেদনা।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
একটি বিয়ের আনন্দ যখন মুহূর্তেই এতগুলো পরিবারের আজীবনের কান্নায় পরিণত হয়, তখন প্রশ্ন থেকেই যায়—আমাদের সড়কগুলো আর কত প্রাণ কেড়ে নেবে?

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category