
ড:খন্দকার নাজমুল হক
গবেষক ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ
সংগ্রহে মোহাম্মদ উল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার
১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জুলাই বিপ্লবের অংশীদার হিসেবে বিএনপি নিরস্কুশ সংখ্যা গরিষ্টতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দলের আসন দখল করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সংসদ সদস্য জাতীয় নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ডা: শফিকুর রহমান। স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ডেপুটি স্পীকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকলেও সরকারী দল তাদেরকে সে সুযোগ দেয়নি। ত্রয়োদশ সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় লিডার ডা: শফিকুর রহমান প্রথম বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন। এছাড়া ৮০% সদস্য নবীন সংসদ সদস্য। মন্ত্রী পরিষদের অধিকাংশ সদস্য নবীন। মন্ত্রীদের মিডিয়ায় প্রদত্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেকাদায় ফেলে দিয়েছে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের মাধ্যমে যাদের পিতাদেরকে ফাঁসি দিয়েছে তাদের সন্তান সংসদ সদস্য হয়ে সংসদে এসেছে। এরা হলো হাম্মাম কাদের চৌধুরী, মাসুদ সাঈদী, ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাশেম আরমান এবং ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন। আবার ফাঁসির আসামি মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনাল থেকে খালাস পেয়ে সংসদে এসেছেন জনাব এ টি এম আজহারুল ইসলাম। সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষন দিয়েছেন ফ্যাসিবাদের দোষর প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন। প্রেসিডেন্ট তার ভাষনে ভোল পালটিয়ে হয়েছেন জাতীয়তাবাদী। প্রেসিডেন্টের ভাষন বর্জন করেছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা। সংসদকে প্রাণবন্ত করে তুলবেন এমন অভিজ্ঞ ও দক্ষ সংসদ সদস্যের অভাব রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের অংশীদার হিসেবে বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামীকে সংসদে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করতে হবে।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভাষন প্রদান করা একটি সংসদীয় রীতির ইতিহাস রয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ভিত্তি রয়েছে বাহাত্তর সালের সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদে। অনুচ্ছেদ ৭৩: বলা হয়েছে ৭৩(১) রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান এবং বাণী প্রেরণ করিতে পারিবেন। ৭৩(২) সংসদ-সদস্যদের প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় এবং প্রত্যেক বৎসর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান করিবেন। ৭৩(৩) রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণ শ্রবণ বা প্রেরিত বাণী প্রাপ্তির পর সংসদ উক্ত ভাষণ বা বাণী সম্পর্কে আলোচনা করিবেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আলোচনা করার বিধান আছে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালীর ৩৪ বিধিতে। সাধারণতঃ রাষ্ট্রপতির ভাষণ টেবিলে উপস্থাপন করা হয়, এরপর ৩৪(২) বিধি অনুসারে একজন সদস্য ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন, সেই প্রস্তাবের উপর সংসদ সদস্যরা আলোচনা করেন, শেষে প্রস্তাবটি ভোটে গৃহীত হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে মতামত দেন।
এই প্রথার ঐতিহাসিক উৎস মূলত ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথা থেকে এসেছে। যেমন ব্রিটিশ পালামেন্টে রাজা বা রানী সংসদের অধিবেশন শুরুতে ভাষণ দেন। পাকিস্তান আমলেও এই প্রথা ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর একই সংসদীয় ব্যবস্থা অনুসরণ করেছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের উদ্দেশ্য: ১. সরকারের গত বছরের কাজের বিবরণ দেওয়া। ২. আগামী বছরের নীতি ও পরিকল্পনা ঘোষণা করা। ৩. সংসদের সামনে সরকারের কর্মসূচি তুলে ধরা এবং ৪. সংসদ সদস্যদের মতামত ও সমালোচনার সুযোগ দেওয়া।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে কিছু এলোমেলো অবস্থা চোখে পড়েছে। জাতীয় সংগীত পরিবেশন কালে বিরোধী দলের অনেক সদস্য যথাসময়ে দাঁড়িয়ে সন্মান প্রদর্শন করে নাই। এতে বিরোধী দলের চীফ হুইপ এবং হুইপদের ব্যথতা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। সাংসদ এ টি এম আজহারুল ইসলাম সাহেব বেগম খালেদা জিয়াকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী না বলে একজন মহিলা বলে সম্মোধন করেন। যাহা সংসদীয় ভাষার ও উপস্থাপনার খেলাপ হয়েছে। হাতিয়ার সাংসদ হান্নান মাসুদ সাহেব স্পীকারকে মাননীয় বলে স্পীকার সম্মোধন করেন নাই। অনেক সাংসদ অধিবেশনে ঘুমিয়ে ছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম শাহাদাত হোসেন সেলিম। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সাংসদ দেখে দেখে বক্তব্য রাখেন। স্বরাস্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সাহেব প্রধানমন্ত্রী বা আইন মন্ত্রীকে সুযোগ না দিয়ে নিজেই সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন। বাহাত্তরের সংবিধানের দোয়াই দিয়ে ওবায়দুল কাদের রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছিল বিধায় ফ্যাসিস্ট শাসন জাতির ঘাড়ে চেপেছিল। তেমনই জুলাই সনদ ও হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে বিজয়কে কঠাক্ষ করে রাজনৈতিক সংকট নিরসন করা যাবেনা। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের অধিকারকে অশ্রদ্ধা করে ১৯৯৪ সালে সংবিধানের দোয়াই দিয়ে শেষ রক্ষা হয়নি। ২০২৬ সালে এসে হ্যাঁ ভোটের দাবীকে অযৌক্তিক বা অসাংবিধানিক বলে শেষ রক্ষা পাওয়া যাবেনা।
নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপি রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিনের ভাষণ বর্জন করেছিলো? সংসদীয় রাজনীতিতে সরকারী দলের সদস্যগণ প্রেসিডেন্টের ভাষণের পক্ষে থাকে। এটাই বাংলাদেশের ক্ষমতার ইতিহাস। সংসদে মেজরিটি থাকলে রাতকে দিন, তিলকে তাল করে ফেলে। মেজরিটির জোরে অতীত ভুলে যায়।
২০০৯ সালে নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপি তাদের নিয়োজিত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজ উদ্দিনের ভাষণ বর্জন করেছিলো? ইয়াজ উদ্দিনকে বিএনপির এমপিরা গালিও দিয়েছিলো। সেই বিএনপি এখন সাবেক যুবলীগ নেতা ফ্যাসিবাদের দোষর চুপ্পুকে নিয়ে মায়াকান্না করছে! ১১ দলীয় জোট ভাষণ বর্জন করে ইতিহাস সৃষ্ঠি করেছে। ইয়াজ উদ্দিন সাহেব ফ্যসিস্ট ছিলেন না। ১/১১ মইনুদ্দীন ফখরুদ্দীনের ষড়যন্ত্রের শিকার ছিলেন।
২০০৯ সালের নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ছিলেন ইয়াজ উদ্দিন যিনি বিএনপির সমর্থনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য, সেই অধিবেশনে বিএনপি তাদেরই সমর্থিত রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করেছিল। শুধু বর্জনই নয়, সংসদ কক্ষে বিএনপির কিছু সংসদ সদস্যের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা ও কটূক্তিও শোনা গিয়েছিল।
রাজনীতিতে অবস্থান ও স্বার্থের পরিবর্তন কত দ্রুত ঘটে, এই ঘটনাটি তার একটি বাস্তব উদাহরণ। যে রাষ্ট্রপতিকে একসময় নিজেদের সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছিল, ক্ষমতার পালাবদলের পর তাকেই আবার রাজনৈতিক সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়। তখন রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে প্রতিবাদ, বর্জন কিংবা তীব্র ভাষার ব্যবহার, সবই যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। আজকের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যখন অনেকেই নীরবতা, সমঝোতা বা রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন ইতিহাসের এই ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবস্থান প্রায়ই পরিস্থিতি ও স্বার্থের ওপর নির্ভর করে বদলে যায়। ক্ষমতায় থাকা বা বিরোধী দলে থাকা দুই অবস্থাতেই দলগুলোর ভাষা ও আচরণ অনেক সময় ভিন্ন হয়ে পড়ে।
সুতরাং রাজনীতির ঘটনাগুলো বিচার করতে গেলে কেবল বর্তমান সময়ের দিকে তাকালে চলবে না; অতীতের ঘটনাগুলোও মনে রাখতে হবে। ইতিহাস আমাদের শেখায়, রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু খুব কমই থাকে, স্থায়ী থাকে কেবল স্বার্থ ও পরিস্থিতির হিসাব। এই কারণেই রাজনীতির সমালোচনা করার আগে কিংবা কাউকে একতরফাভাবে দোষারোপ করার আগে আমাদের উচিত অতীতের ঘটনাগুলো মনে রাখা। কারণ ইতিহাস প্রায়ই আমাদের সামনে এমন আয়না তুলে ধরে, যেখানে আমরা রাজনীতির প্রকৃত চরিত্রকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাই।
১৯৭৩ সালের সংসদ থেকে দেখা সংখ্যা গরিষ্টতার জোরে রাজনৈতিক দলগুলোর ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল প্রবর্তন করেছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার মাধ্যমে বাকশাল বিলুপ্ত হয়ে যায়। ১৯৭৭ সালের এপ্রিল মাসে আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরিয়ে জিয়াউর রহমান নিজেকে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত করেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জেনারেল জিয়া নিহত হয়েছেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে হটিয়ে দিয়ে রাস্ট্র ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল এরশাদ। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতা থেকে সড়ে দাঁড়ান।
১৯৯১ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে এবং বেগম খালেদা জিয়া প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
১৯৯১ সালের ৬ অগাস্ট বাংলাদেশ সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় ব্যবস্থার পুন:প্রবর্তন ঘটে। বিএনপি কেয়ারটেকার সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করায় ১৯৯৪ সালে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। বিরোধী দলের চাপের মুখে বিএনপি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে বিরোধী দলবিহীন সংসদ নির্বাচন করে কেয়ারটেকার সরকারের বিল পাস করে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ভুল সিদ্ধান্ত দেশে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। বিএনপি নিজেদের পছন্দমতো প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান পদে নিশ্চিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স সীমা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সংঘাতময় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনী ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। সেনাবাহিনীর এই হস্তক্ষেপ কুখ্যাত ঘটনা ‘১/১১’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলোপের পর বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের আর কোন সুযোগ রইলনা। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে বিরোধী দলবিহীন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সংসদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। বিরোধী দল বিহীন সংসদ নির্বাচনের কারণে ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার সরকার ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসর প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন বিদায় নেয়নি। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী এবং ডা: শফিকুর রহমান বিরোধী দলের লিডার। দেশকে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়ার আরেকটা সুযোগ পেয়েছে জুলাই বিপ্লবীরা।
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক তত্তাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে জাতির বারোটা বাজিয়ে ছিল। ক্ষমতাসীন দলের ভুল সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তারেক রহমান এবং ডা: শফিকের নিকট জাতির প্রত্যাশা সংবিধান সংস্কার, হ্যাঁ ভোটের দাবীকে অগ্রাধিকার হিসেবে তত্তাবধায়ক সরকার, সংখ্যানুপাতিক হারে সংসদ নির্বাচন সংযোজন করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়া। বিএনপি জামায়াতের ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে জাতিকে, ১৯৯৬ সালে বিএনপি জামায়াতের আলাদা সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা দখল করার সুযোগ করে দিয়েছিল। ২০০৮ সালে জেনারেল মঈন ফখরুদ্দিনের পাতানো সংসদ নির্বাচন দেশের বারোটা বাজিয়েছে, ১৫ বছর ফ্যাসিবাদ জাতির ঘাড়ে চেপেছিল। এবারও বিএনপি জামায়াতের জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ভুল হলে তৃতীয় শক্তি ক্ষমতা দখল করবে এবং ফ্যাসিবাদ আবারও ফিরে আসার সুযোগ পাবে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করে দুনীতিমুক্ত রাস্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে করতে হবে। বিভাজন নয়, জাতীয় ঐক্য চাই এবং সবার আগে দেশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
Leave a Reply