মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত আসনে হেলেন জেরিন খান এমপি, উচ্ছ্বসিত মাদারীপুর মোহনগঞ্জে সড়ক নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতা, নীরব প্রশাসন—মৃত্যুঝুঁকিতে মানুষ আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ (রহঃ) মাজার জিয়ারতে দোয়ারাবাজারের নেতৃবৃন্দের সংক্ষিপ্ত সফর খুলনার শিয়ালীতে সনাতন ধর্ম সুরক্ষা পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে সংঘবদ্ধ ডাকাতির তাণ্ডব: ৬ স্বর্ণের দোকান লুট ভোররাতে হাউসদী বাজারে হানা, প্রত্যক্ষদর্শীকে বেঁধে নির্যাতন রাজৈরে পুলিশের জালে ইয়াবা কারবারি, উদ্ধার ১৬৫ পিস দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাচনে আব্দুল বাছিত খানকে আল ইসলাহর পূর্ণ সমর্থন রাঙামাটিতে ৩৪তম নববর্ষ উদযাপন: শোভাযাত্রা ও পান্তা উৎসবে মুখর শহরবাসী শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৈশাখের বর্ণাঢ্য উৎসব—পান্তা-ইলিশ, নাচ-গানে মুখর ক্যাম্পাস

বিজয় কি শুধুই উৎসব? নাকি এখনো এক অসমাপ্ত লড়াই

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৫৯ Time View

বাতেনুজ্জামান জুয়েল।

১৬ ডিসেম্বর—এই দিনটি আমাদের গর্বের, আবার আমাদের বিবেকের কাঠগড়াও। কারণ বিজয় শুধু অর্জনের গল্প নয়; বিজয় রক্ষা করার দায়ও বটে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের শেষে যে বিজয় আমরা পেয়েছিলাম, তা কোনো উপহার ছিল না—ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি বিনিময়।

আত্মসমর্পণের দিন, আত্মমর্যাদার জন্ম

১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত বিজয় ছিল বাঙালির আত্মমর্যাদার পুনর্জন্ম। সেই বিজয় এসেছিল পোড়া গ্রাম, বিধ্বস্ত শহর আর লাশে ভরা নদীর বুক চিরে। এই সত্য আড়াল করে বিজয় উদ্‌যাপন করা মানে ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণা।

রক্তের ঋণ কি শোধ হয়েছে?

ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর নির্যাতিত লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের পর প্রশ্ন উঠতেই পারে—আমরা কি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে পেরেছি? আজও যখন বৈষম্য, দুর্নীতি আর অন্যায় সমাজের শিরায় শিরায় ঢুকে পড়ে, তখন বিজয় দিবস শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে তা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি নয় কি?

বিজয় মানে পতাকা নয়, চরিত্র

পতাকা উড়ানো সহজ, কিন্তু বিজয়ের চরিত্র ধারণ করা কঠিন। বিজয় মানে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কথা বলা, দুর্বল মানুষের পাশে থাকা। যে সমাজে ন্যায় চাপা পড়ে, সেখানে বিজয় কেবল দেয়ালে ঝোলানো স্মারক হয়ে থাকে।

ইতিহাস বিকৃতি: বিজয়ের শত্রু

আজ সবচেয়ে বড় বিপদ যুদ্ধ নয়—ইতিহাস বিকৃতি। মুক্তিযুদ্ধকে খণ্ডিত করা, শহীদের সংখ্যা নিয়ে তর্ক, দালালদের পুনর্বাসন—এসবই বিজয়ের ওপর সরাসরি আঘাত। ইতিহাসের সঙ্গে আপস করলে বিজয় টেকে না।

প্রজন্মের কাছে কঠিন সত্য

আজকের প্রজন্মকে শুধু গল্প শোনালে চলবে না; সত্যটা জানতে দিতে হবে—এই দেশ রক্তে কেনা। বিজয় ভোগ করার অধিকার তখনই টেকে, যখন সেই বিজয় রক্ষা করার সাহস থাকে।

উপসংহার

১৬ ডিসেম্বর আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যুদ্ধ জিতলেই সব শেষ হয় না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদিন লড়াই করাই প্রকৃত বিজয়। এই দিনে আমাদের শপথ হওয়া উচিত—বিজয়কে উৎসবে নয়, ন্যায়ে, সত্যে ও মানবিকতায় বাঁচিয়ে রাখব।

জয় বাংলা।
জয় বিজয়।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিরাম।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category