
শহীদুল আলম টুকু,স্টাফ রিপোর্টার
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম নামটি উচ্চারিত হলেই মনে পড়ে বিদ্রোহের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। কিন্তু আমাদের সমাজেও আছেন আরেক কাজী নজরুল ইসলাম—যিনি কবিতার বিদ্রোহী নন, তবে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল এক সাহসী মানুষ। তাঁর বিদ্রোহ অস্ত্রের নয়, তাঁর বিদ্রোহ একটি সৎ ও নির্ভীক কলমের।
জীবনের শুরুতে তিনি সাধারণ কর্মজীবনের পথে এগিয়েছিলেন। কিন্তু হৃদয়ের গভীরে ছিল অন্য এক তাগিদ—সমাজকে দেখার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অদম্য ইচ্ছা। সেই ইচ্ছাই এক সময় তাকে চাকরির নিরাপদ সীমানা ছেড়ে সাংবাদিকতার কঠিন অথচ সম্মানজনক পথে নিয়ে আসে। কারণ তিনি বুঝেছিলেন, একটি সত্যনিষ্ঠ কলম অনেক সময় ইতিহাসের গতিপথও বদলে দিতে পারে।
আজ তিনি রাজৈর মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। কিন্তু তাঁর পরিচয় কেবল একটি পদবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক, একজন সচেতন নাগরিক এবং সর্বোপরি একজন সাদা মনের মানুষ। তাঁর কাছে সাংবাদিকতা শুধু খবর লেখা নয়; এটি সমাজের প্রতি এক নৈতিক দায়িত্ব।
সমাজের অবহেলিত মানুষের কথা বলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা এবং সত্যকে নির্ভয়ে তুলে ধরা—এই তিনটি গুণই একজন প্রকৃত সাংবাদিককে আলাদা করে তোলে। কাজী নজরুল ইসলাম সেই বিরল মানুষের একজন, যিনি নিজের কলমকে কখনো অন্যায়ের কাছে নত হতে দেননি। তাঁর বিশ্বাস, সত্য কখনো চাপা থাকে না; সাহসী কেউ না কেউ তা তুলে ধরেই।
যারা তাঁর সান্নিধ্যে এসেছেন তারা জানেন, তিনি একজন নির্মল হৃদয়ের মানুষ। মানুষের উপকার করতে পারলেই তিনি যেন এক অদ্ভুত শান্তি খুঁজে পান। সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার এই মানসিকতাই তাঁকে একজন আলাদা মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
গতকাল ছিল তাঁর জন্মদিন—একজন সৎ ও নির্ভীক মানুষের জীবনের আরেকটি আলোকিত দিন। এই বিশেষ দিনে তাঁর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অগাধ ভালোবাসা। তিনি যেন দীর্ঘদিন সুস্থ থেকে তাঁর কলমের আলোয় সমাজকে আলোকিত করেন, সত্যের পক্ষে দাঁড়ান এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সততা ও সাহসের অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকেন।
কারণ ইতিহাস সবসময় তাদেরই মনে রাখে, যারা নিজের স্বার্থের চেয়ে মানুষের কল্যাণকে বড় করে দেখেন। কাজী নজরুল ইসলাম সেই মানুষদেরই একজন—যার নির্ভীক কলম, সাদা মন এবং মানবিক চেতনা সমাজে সত্য ও ন্যায়ের পথকে আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।
Leave a Reply