সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত আসনে হেলেন জেরিন খান এমপি, উচ্ছ্বসিত মাদারীপুর মোহনগঞ্জে সড়ক নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতা, নীরব প্রশাসন—মৃত্যুঝুঁকিতে মানুষ আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ (রহঃ) মাজার জিয়ারতে দোয়ারাবাজারের নেতৃবৃন্দের সংক্ষিপ্ত সফর খুলনার শিয়ালীতে সনাতন ধর্ম সুরক্ষা পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে সংঘবদ্ধ ডাকাতির তাণ্ডব: ৬ স্বর্ণের দোকান লুট ভোররাতে হাউসদী বাজারে হানা, প্রত্যক্ষদর্শীকে বেঁধে নির্যাতন রাজৈরে পুলিশের জালে ইয়াবা কারবারি, উদ্ধার ১৬৫ পিস দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাচনে আব্দুল বাছিত খানকে আল ইসলাহর পূর্ণ সমর্থন রাঙামাটিতে ৩৪তম নববর্ষ উদযাপন: শোভাযাত্রা ও পান্তা উৎসবে মুখর শহরবাসী শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৈশাখের বর্ণাঢ্য উৎসব—পান্তা-ইলিশ, নাচ-গানে মুখর ক্যাম্পাস

চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং ঈদ উৎসব পালন কর।

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬
  • ১২০ Time View

 

মোহাম্মদ উল্লাহ স্টাফ রিপোর্টার,নোয়াখালী

চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে ঈদের আনন্দ কর। প্রতিবেশী দেশের সাথে মিল রেখে রোযা রাখা এবং ঈদ উৎসব পালন করার কোন বিধিমালা ইসলামের ধর্মীয় বিধানে নেই। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক রাঃ অর্ধেক পৃথিবীর শাসক ছিলেন। কিন্তু তিনি একই দিন বিশ্ববাসীর কাছে রো্যা রাখা ঈদের নামাজ আদায় করার আইন জারি করেন নাই। আল্লাহ তায়ালা সুরা বাকারায় বলেছেন ” চাঁদ তোমদের জন্য সময় এবং হজ্জের নির্দেশক। রাসুলুল্লাহ সাঃ রমাদান মাসে নতুন চাঁদ দেখে রোজা পালন করতে বলেছেন এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখে ঈদ উল ফিতর উদযাপন করতে বলেছেন। রাসুলুল্লাহ সাঃ আরও বলেছেন চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে ঈদ কর। ২৯শে রমজান মেঘের কারণে চাঁদ দেখা না গেলে ৩০টি রোযা পুরন কর। চাঁদ দেখে মুসলমানদের ঈদ উৎসব পালন করতে হবে। মুসলমানদের ইবাদত বন্দেগী পালন করার জন্য কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট বর্ণনা আছে।

বিগত বছরগুলোতে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে বিশ্বের মুসলমানদের রোযা ও ঈদ উৎসব একই দিন পালনের জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. সমশের আলী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন একই দিন রোযা ও ঈদ উৎসব পালন করা যেতে পারে। বাংলাদেশের আলেমসমাজ হাফেজ মুফতি মাওলানা সাহেবরা প্রকাশ্যে কোন মতামত প্রদান করে নাই। বিগত বছরগুলোতে একশ্রেণির উচ্চাভিলাষী ইসলাম বিরোধী মিডিয়া সিন্ডিকেট মুসলমানদের ইবাদত বন্দেগী চাঁদের সাথে সম্পকিত, তা মানতে রাজি নহে বিধায় মুসলমানদের একে অপরের সঙ্গে বিবাদ লাগানোর জন্য সুযোগের অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশে কুরবানির ঈদে পশু কোরবানিকে কিছু সংখ্যক কমিউনিষ্ট বুদ্ধিজীবী পশু হত্যা বলে প্রচার করছে।

মহানবী সাঃ একদিন রমজানের রোজা রেখে কাফেলা নিয়ে নিজেই পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে ছিলেন, সেই সময় কিছু সাহাবী পাহাড়ের নীচে ছিলো এবং কিছু সাহাবী পাহাড়ের উপরে ছিল, পাহাড়ের নীচের সাহাবীরা দিনের আলো এবং লালিমা দেখতে পেলেন না, এমতাবস্থায় রাসুল সাঃ একই কাফেলাকে একসাথে ইফতারের সুযোগ দেন নাই। যে সকল সাহাবী পাহাড়ের নীচে ছিলেন তাদেরকে আগে ইফতার করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং তারা আগে ইফতার করেছেন। আর যে সকল সাহাবী পাহাড়ের উপরে ছিলেন, দিনের আলো এবং সুর্যের লালিমা দেখেছেন তারা দিনের আলো শেষ হওয়ার পরে ইফতার করেছে। রাসুলুল্লাহ সাঃ হাদিস অনুসরণ করে কাতারের আবুধাবির হোটেল বুরুযে ৩টি সময়ে রোজাদারগন ইফতার করে থাকে।

বাংলাদেশের চাঁদপুরে কিছু সংখ্যক মাজার পুজারী ভন্ডপীরের অনুসারীরা চাঁদ দেখে রোজা ও ঈদ পালন করেনা, তাহারা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রোজা ও ঈদ উৎসব পালনের নির্দেশকে অমান্য করে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোযা রাখে এবং ঈদ উৎসব পালন করে আসছে। একশ্রেণির মিডিয়া সিন্ডিকেট চাঁদপুরে ভন্ডপীরের অনুসারীদের রোজা ঈদ ও কুরবানি ঈদের ছবি প্রচার করে থাকে যা বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি আইনের পরিপহ্নী । বাংলাদেশে মুসলমানদের ধর্ম পালন করা এবং ইবাদত বন্দেগী পালন কোন ভন্ডপীরের নিকট বন্দোবস্ত দেওয়া হয় নাই। ভন্ডপীরের অনুসারীরা মাজার পুজারী ও শিরক এবং কুফরিতে লিপ্ত। যারা রাসুলুল্লাহ সাঃ হাদিস বিরোধী কাজে লিপ্ত থেকে চাঁদ দেখে রোজা ও ঈদ উৎসব পালন করেনা তাহারা কোন নবীর উম্মত!! যারা বাংলাদেশ সরকারের চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা ভংগ করে ১ দিন আগে চাঁদপুরে রোজা ও ঈদ পালন করে তারা রাস্ট্রের আইন শৃংখলা ভংগকারী এবং রাস্ট্রদ্রোহী। ওদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। হাক্কানী আলেম মুফতি মাওলানা সাহেব এবং আইনজীবীদের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করে বিচারকদের রুলজারীর জন্য প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

কিছুসংখ্যক ফেতনাবাজ ভন্ডপীরের অনুসারী মাজার পুজারীগোষ্ঠী সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে ঈদ করে। চাঁদপুরে মাজারপুজারী পীরের অনুসারীরা বাংলাদেশ সরকারের অফিস আদেশ অমান্য করে একদিন আগে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে! যা এদেশের বিভেকবান কোটি কোটি মুসলমানদের ইবাদত বন্দেগী পালন এবং ইসলামের সঠিক ধর্মীয় বিধিবিধান পালনকারীদের বিরুদ্ধে সুগভীর ষড়যন্ত্র এবং ওরা ইসলামের মুখোশধারী হিসেবে মিথ্যা ও বিভ্রান্ত ছড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের মুসলমানদের এখন বুজতে হবে চাঁদপুরে ভন্ডপীরের অনুসারী ওরা কোন নবীর উম্মত? তারা এবার সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ করে । ওদের বিরুদ্ধে ইসলাম বিরোধী, রাসুলুল্লাহ সাঃ হাদিস বিরোধী, রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করে রোজা রাখা এবং ঈদ উৎসব পালন করার অপরাধে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর উচিত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা ।

বাংলাদেশে ভন্ড মাজারপুজারী ফেতনাবাজ যাহারা সৌদি আরবের সাথে রোযা ও ঈদ পালন করে, ওরা কোন নবীর উম্মত!” ওরা রাসুলুল্লাহ সাঃ সহীহ হাদিস বিরোধী। রাসুলুল্লাহ সাঃ উম্মতের মধ্যে বিবাধ সৃস্টিকারী ওদের এভাবে মুসলিম থাকার কোন অধিকার আছে কি? হাক্কানী মুফতি মাওলানা থেকে ফতোয়া নেওয়া যেতে পারে। আইনজীবী ফেডারেশন এর বিচারক থেকে মুসলিম আইনের সঠিক ব্যাখ্যা নিয়ে চাঁদপুরবাসীকে কুফর ও শিরকমুক্ত করতে এগিয়ে আসতে হবে।

বিশ্বের মধ্যে প্রথম জাপান চাঁদ দেখে থাকে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময়ে চাঁদ দেখে থাকে। আল্লাহর চাঁদের সময়ে ২৪ ঘন্টাই আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী নামাজ রোজা চালু আছে। আমেরিকানারা চাঁদের হিসাবে জাপান থেকে ২৪-৩০ ঘন্টা পরে চাঁদ দেখে থাকে। একই আমেরিকায় বিভিন্ন রাজ্যে ১০-১৩ ঘন্টা সময়ের ব্যবধান তাহলে বিশ্বের সকল মুসলমান একসাথে একই সময়ে নামাজ রোজা ও ঈদ পালন করার কোন সুযোগ আছে কি!!

মুসলমানদের ইবাদত বন্দেগী চাঁদের সময়ের সাথে সম্পর্ক। মুসলিমরা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান উপজাতিদের মতো ক্যালেন্ডার তৈরি করে একসাথে একই সময়ে নামাজ রোজা ও ঈদ পালন করতে পারবেনা। মুসলমানদের ইবাদত বন্দেগী কিভাবে পালন করবে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সিহাহ সিত্তার হাদিসে রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাঃ এবং চার খলীফা নিজেরা দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। বিশ্বের মধ্যে যেই রাস্ট্র যেই দিন চাঁদ দেখবে, সেই রাস্ট্রে সেই দিন থেকে রোজা রাখবে। মেঘের কারণে ২৯শে রমজান চাঁদ দেখা না গেলে ৩০টি রোজা পুরন করবে। রোযা ও ঈদ উৎসব চাঁদ দেখে পালন করতে হবে। যাহারা ইসলামিক ফাউণ্ডেশন এর ঘোষণা ভংগ করবে এবং সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে রোযা ও ঈদ উৎসব পালন করবে তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সৌদি আরবে কুরবানির ঈদ পালন করেন এবং বাংলাদেশের কুরবানির ঈদ ১দিন পিছিয়ে দিয়ে ছিলেন । প্রেসিডেন্ট এরশাদ বাংলাদেশে এসে আবার কুরবানির ঈদ উৎসব পালন করেছেন। মুফতি আমিনী সাহেব ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে ঢাকা শহরে একদিন আগে রোজার ঈদ উৎসব পালন করেছিলেন!! বাংলাদেশে সরকারের চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা / ডিক্লেয়ারেশন মোতাবেক রোজা রাখা হয় এবং ঈদ উৎসব পালন করা হয়।

বিশ্বের অনেক দেশ আছে যেখানে মুসলমানদের ধর্মীয় ইবাদত অনুস্টান পালন করার সুযোগ নেই। রোজা ও ঈদ উৎসব করতে পারেনা। পশু কোরবানি করতে দেওয়া হয়না। হাজার হাজার বছর ধরে বাংলাদেশে সকল ধর্ম এর অনুসারী মানুষ নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করে আসছে। প্রতিবেশী ভারতের অনেক রাজ্যে মুসলমানরা কুরবানির ঈদে পশু কোরবানি করতে পারেনা। বিশ্বের অনেক দেশে মুসলিম নারীদের হিজাব পড়তে দেওয়া হয়না। ভারতের অনেক রাজ্যে স্কুলে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পড়তে দেওয়া হয়না।

মুসলমান নারী ও পুরুষদের ইবাদত বন্দেগী, নামাজ রোজা ও ঈদের উৎসব পালন করার জন্য কুরআন ও হাদিস অনুসরণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী মুসলমানদের ইবাদত বন্দেগী পালন করার জন্য মুসলিম রাস্ট্রের সরকার এবং ওআইসিকে এগিয়ে আসা উচিৎ। বাংলাদেশের নাগরিকরা স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে থাকে, তেমনি ভারতেও অন্যান্য ধর্ম পালনকারীদের নিরাপত্তার সাথে ধর্মীয় উৎসব পালন নিশ্চিত করতে হবে।

ড. খন্দকার নাজমুল হক
গবেষক ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category