
বাতেনুজ্জামান জুয়েল
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাটে অবস্থিত শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব হাসিবুল হাসান হাওলাদার। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এ অঞ্চলের নারী শিক্ষার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। সীমাবদ্ধতার মাঝেও আমরা শিক্ষার মানোন্নয়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তার এবং একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় এই প্রতিষ্ঠানকে আমরা আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-০২ আসনের সংসদ সদস্য জনাব জাহান্দার আলী মিয়া। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এসময় প্রধান অতিথি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবির প্রেক্ষিতে বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে এবং মাঠ ভরাটের কাজ আগামী দুই-চার দিনের মধ্যেই শুরু করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের লক্ষ্যে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান জনাব কাজী নুরে আলম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গোপালগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক জনাব মোঃ সোহেল পারভেজ শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য, সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া মাদারীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য জনাব গাউছ-উর রহমান বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ এ অঞ্চলের নারী শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমরা চাই এই প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও উচ্চতায় পৌঁছাক এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সমৃদ্ধ হোক।”
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সম্মাননা প্রদান করা হলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
Leave a Reply