শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মোহনগঞ্জে কাবিটা প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি। নির্মাণ শেষ না হতেই রাস্তায় ধস। অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুনের আহ্বান শিরোনাম: রাঙ্গামাটিতে মাইজভাণ্ডারী শাহ এমদাদিয়ার ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, উপকৃত ২ শতাধিক মানুষ মানুষরূপী জানোয়ারদের শহরে আর কত রামিসা মরবে? এই সমাজ আজ পচে গেছে। ভয়ংকরভাবে পচে গেছে। বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের উদ্যোগে রাজৈর উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন শিক্ষাঙ্গনে ব্যতিক্রমী আয়োজন, একসাথে কাঁচা আম মেখে আনন্দে মাতলো দুই হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারী মাদারীপুরে বইছে আনন্দের জোয়ার: নারী হুইপ হিসেবে আলোচনায় হেলেন জেরিন খান মাদারীপুরে একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার গ্রেফতার এড়াতে ১৯ পিস ইয়াবা গিলে যুবক সংকটাপন্ন, নেওয়া হলো ঢামেকে

পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের অভিযোগে উত্তাল নোয়াখালী ডেল্টা মিলসের বিরুদ্ধে তিন শতাধিক পরিবারের ক্ষোভ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ২৪৪ Time View

মোহাম্মদ উল্লাহ
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী

নোয়াখালীর চৌমুহনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর মৌজায় ডেল্টা মিলস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পুনর্বাসন ছাড়াই প্রায় তিন শতাধিক পরিবারকে পৈত্রিক ভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা এবং নানামুখী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা বাপ-দাদার আমল থেকে ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি ডেল্টা মিলসের পক্ষ থেকে দালাল ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তারা জানান, ১৯৬২-৬৩ সালে ডেল্টা মিলসের জন্য মোট ৪৯.৮৩ একর জমি মালিক আবদুর রবের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। তবে অবশিষ্ট প্রায় ১০.১৭ একর জমি ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের বসবাসের জন্য নির্ধারিত ছিল। সেই জমিতেই বর্তমানে প্রায় ৩০০ পরিবার বসবাস করছে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, করিমপুর এলাকায় পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে একটি প্রকল্প শুরু করা হলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসনের উপস্থিতিতে ডেল্টা মিলস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি হলেও এখন পর্যন্ত কেউ কোনো আর্থিক সহায়তা বা স্থায়ী পুনর্বাসন পাননি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন দালালচক্র স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। বিশেষ করে নারী সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এতে পরিবারগুলো চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা—সহকারী কমিশনার (ভূমি), বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি)—এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। চলমান মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—মামলা নম্বর ১৭৭/২০২৫, ৩৫৪১/২০২৫ এবং ৭৫২/২০২৬। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জমির সিএস খতিয়ান ১৩৩, ১৬১, ১৯৫ ও ২৯ নম্বর খতিয়ানে জমির বিবরণ উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডেল্টা মিলস প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে মিলটির অবকাঠামো গুদাম হিসেবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মিলের কিছু যন্ত্রপাতি দালালচক্র বিক্রি করে আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে সমন্বয়ক মো. ইসমাইল, মো. দুলাল, তাজু, হাসানসহ অন্যরা বলেন, “আমাদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আমরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”
এ বিষয়ে ডেল্টা মিলস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category