
মোঃ রাজু
জেলা প্রতিনিধি: (রাজশাহী)
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের কোশিয়া গ্রামে সরকারি খাস জমি দখল, চলাচলের রাস্তা বন্ধ এবং চলমান অভিযোগের মধ্যেই সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের ১২৭ নং কোশিয়া মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের আর.এস ৩৭৩ নং দাগভুক্ত ০.১২০০ একর সরকারি খাস জমির ওপর দিয়ে স্থানীয় অন্তত সাতটি পরিবার দীর্ঘ ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে চলাচল করে আসছিল। জমিটি এলাকাবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে একই এলাকার মোঃ নাজিম উদ্দিনসহ কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক খাস জমি দখল করে ইটের প্রাচীর তুলে সীমানা নির্ধারণ করেন এবং সেখানে পাকা ঘর নির্মাণ করেন। স্থানীয়রা বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে সাতটি পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। স্থানীয়রা একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়েন বলে দাবি করেছেন।
পরে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক রাজশাহী ও গোদাগাড়ী প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে অভিযোগের কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে একই মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত ডহর শ্রেণীর প্রায় ২৪ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উক্ত সম্পত্তি থেকে কয়েকটি গাছ কেটে নেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে গাছগুলো জব্দ করে।
স্থানীয়দের দাবি, তদন্তাধীন সরকারি জমি থেকে গাছ কেটে ফেলা সরকারি সম্পদ নষ্টের শামিল এবং এটি প্রমাণ গোপনের অপচেষ্টা হতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে খাস জমি উদ্ধার, চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা, গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ নাজিম মাস্টারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে কোনো ঈদগাহ মাঠ নেই। তাই এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply