
বাতেনুজ্জামান জুয়েল
তুমি আমাকে চাও না—
এই অনিবার্য সত্য বহুদিন আগেই স্থির হয়েছে
তোমার দৃষ্টির নির্লিপ্ত প্রান্তে।
তোমার নীরবতা, তোমার অনাগ্রহ—
আমার জন্য নিঃসন্দেহ এক প্রত্যাখ্যানের ভাষ্য।
তবু, কী এক অদ্ভুত নিয়তিতে,
আমি বারবার তোমাকেই চেয়েছি—
অপ্রকাশ্য, অব্যক্ত, অপ্রাপ্তির অসুখ নিয়ে।
কখনো ইচ্ছাকৃত ক্লান্তিতে শরীর ভেঙেছি,
কখনো নিশীথে ডেকেছি জ্বর—
যেন কাঁপতে থাকা দেহের অজুহাতে
তুমি এসে দাঁড়াও আমার শিয়রে।
কারণ আমি জানি—
তুমি অসুস্থ মানুষ দেখতে যাও,
তাদের কপালে হাত রাখো,
তাদের নিঃশ্বাসে খোঁজ নাও জীবনের স্পন্দন।
সেই স্পর্শের সামান্য অংশীদার হওয়ার জন্যই
আমি অসুখকে আহ্বান করেছি বারংবার।
কিন্তু কী নির্মম পরিহাস—
অসুখ এলো না, জ্বরও স্পর্শ করল না আমাকে।
শুধু ভেতরে ভেতরে
একটি দীর্ঘশ্বাস জমে উঠলো—
অদৃশ্য, অথচ গভীরতর এক ক্ষয়ে।
তুমি এলে না।
আমি অসুস্থও হলাম না—
তবু এক অনির্বচনীয় অবসাদে
আমার ভেতরের মানুষটি নিঃশেষ হতে থাকলো।
অতএব, এখন আমি মৃত্যুকেই আহ্বান করি—
নিঃশব্দ, নির্লিপ্ত, গাঢ় অন্ধকারের ভেতর থেকে।
কারণ আমি জানি—
তুমি মৃত মানুষ দেখতে যাও।
হয়তো তখন,
আমার শীতল, নিশ্চল দেহের পাশে
এক মুহূর্তের জন্য দাঁড়াবে তুমি।
তোমার দৃষ্টির সেই একটুখানি অবকাশ—
যা জীবনে কোনোদিন আমার জন্য বরাদ্দ ছিল না—
মৃত্যুর পরে এসে থামবে আমার ওপর।
সেই একবারের দেখাই হবে আমার পরম প্রাপ্তি—
শেষ দেখা, শেষ অনুভব, শেষ অধিকারহীন ভালোবাসা।
জীবনের সমস্ত প্রার্থনা যখন প্রত্যাখ্যাত,
তখন মৃত্যুই হয়ে ওঠে একমাত্র সম্ভাব্য সংযোগ—
একটি দৃষ্টি পাওয়ার ক্ষীণ আশায়
আমি নিজেকে সমর্পণ করেছি অন্তিম অন্ধকারে।
হয়তো তখন—
আমি আর থাকবো না,
তবু তোমাকে দেখবো—
নিষ্প্রাণ চোখের অন্তিম স্থিরতায়।
Leave a Reply